08/09/2026
গত ৯ বছর এবং কাঁচা লংকা
শুরুর প্রথম দিন থেকেই আমাদের চ্যালেঞ্জ প্রথাগত রেস্টুরেন্ট এর বাইরে যেতে হবে। ফুড সেফটি নিয়ম মানার সঙ্গে সঙ্গে রেস্টুরেন্ট এর সকলের হাইজিন মেন্টাইন্স করা ,পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন রাখা ইত্যাদির দিকে নজর দেয়া।
চ্যালেঞ্জ এখানেই ,সীমিত খাবার প্রস্তুত করা। দৈনিক কাঁচা শাল সবজি মাছ ,মাংস বাজার করা এবং রান্না করা।কোন রকম বাসি ,পচা নষ্ট খাবার পরিবেশন না করা।
যখন কাঁচা লংকা এর যাত্রা শুরু হলো বেলপাহাড়ি তে তখন এই বাজারে মিনিকেট চাল, বাঁশ কাঠি চাল, বাসমতি চাল পাওয়া যেত না। ব্র্যান্ডেড মশলা ,তেল ইত্যাদিও পাওয়া যেত না। যা যেত টাও সীমিত। এখানে কর্ম সূত্রে যারা বাইরে থেকে বসবাস করতেন তাদের জন্যে সীমিত জিনিস পাওয়া যেত। বিরিয়ানি এর উপকরণ পাওয়া যেত না। পোমফ্রেট,ইলিশ,ভোলা ইত্যাদি মাছ ও পাওয়া যেত না। এখনও রবিবার ছাড়া এখানে খাসির মাংস পাওয়া যায় না।
আমাদের এখানে পায়খানা ,বাথরুম নেই। জায়গা ছোট।এটা ঠিক।তবে বাজারের সব থেকে ভালো ব্র্যান্ডেড সরষে তেল, সাদা তেল,চাল ,সব থেকে টাটকা, সবজি মাছ ,দেশি চিকেন ছাড়া একটি দিনেও রান্না হয় নি। এই অঞ্চলের প্রথম ac রেস্টুরেন্ট। এই অঞ্চলের প্রথম কমার্শিয়াল গ্যাস কানেসকশন নেয়া রেস্টুরেন্ট। প্রথম দিন থেকেই ফুড লাইসেন্স নিয়ে শুরু করা রেস্টুরেন্ট। স্থানীয় খাদ্য অভ্যাস পর্যটকদের কাছে তুলে ধরা রেস্টুরেন্ট ।
খাবারে নুন বেশি কম, মশলা বেশি কম ইত্যাদি ছাড়া যে যাই বলুক ,প্রতিটি খাবার স্বাস্থ্য বিধি মেনে fsaai বিধি মেনেই প্রথম দিন থেকে তৈরি করা হয়।
দেশি খাবার ,স্থানীয় খাবার এর প্রতি আমরা নজর দিয়েছি।
আমরা রেস্টুরেন্টে কিরকুটের চাটনি, মাংসের পিঠে বিক্রি করা শুরু করলে স্থানীয় বহু মানুষ বলেছে ,লোক টা পাগল।
রেস্টুরেন্টে পান্তা ভাত, খিচুড়ি বিক্রি শুরু করলে স্থানীয় বহু মানুষ হাসাহাসি করেছে।
কাঁচা শাল পাতায় খাবার বিক্রি করি বলে অনেকে বলেছে লোক টা পাগল।
স্থানীয় দোকান তাদের মেয়াদ উত্তীর্ণ মশলা ,সস ,নষ্ট হওয়া আটা ময়াদা পাঠিয়ে দিয়েছে,বলেছে সকলেই করে আপনিও করুন। তাদের কে ফেরৎ পাঠালে তারা মনক্ষুন্ন হয়েছে। কথা শুনিয়েছে।
সবজি মার্কেটে বাজার করতে গেলে বলেছে ,কলেজের সবজি নিয়ে যান।কিছু হবে না। কেউ বাসি পচা নষ্ট পিঁয়াজ,আদা,লংকা ,সবজি পাঠালে ফেরত পাঠিয়েছি ,এখনও ফেরৎ পাঠাই।কথা শুনেছি ।
যেকোন মানুষ ,যারা বেলপাহাড়ি ঘুরতে আসেন,তাদের কে নিমন্ত্রণ
।আমাদের কাছে আসুন,খেতে হবে না।আপনি আমাদের রান্না ঘর দেখুন,আমাদের ফ্রিজ খুলে দেখুন,আপনি আমাদের বাসন ধোয়ার জায়গা দেখুন এবং কি ভাবে বাসন পত্র ধোঁয়া হয় সেটা দেখুন, ইত্যাদি। ভালো করে দেখুন ,কি মেনু হয়েছে দেখুন,মাছ ,মাংস ,ডিম ভালো করে দেখুন বাসি না টাটকা, তারপর আপনি ইচ্ছে হলে খাবেন ,নইলে খাবেন না।আপনাকে যেকোন দিন,যেকোন অবস্থায় স্বাগত।
যেদিন বেলপাহাড়ি তে প্রথম বিরিয়ানি তৈরি ও বিক্রি শুরু হলো কাঁচা লঙ্কায় ,প্রায় এক মাস বিরিয়ানি বিক্রি হয় নি। এখন এখানে ৫/৬ টি বিরিয়ানি দোকান যেখানে সারা দিন শুধু বিরিয়ানি বিক্রি হয়।
আমি,আমার মেয়ে এবং বউ,বেলপাহাড়িতে আগত আমার সকল আত্মীয় ,বন্ধু বান্ধব এই রেস্টুরেন্টে খাওয়া দাওয়া করি।
রেস্টুরেন্ট এর মালিক বলে বাড়িতে পৃথক ভাবে রান্নার কোন ব্যবস্থা নেই। এই রেস্টুরেন্টে এর যত4স্টাফ আছে ,সকলেই একই রান্না খাবার খায়।তাদের জন্যে আজ পর্যন্ত পৃথক কোন রান্না হয় না অর্থাৎ অতিথি, মালিক,স্টাফ সকলের জন্যে একই ডাল,একই মাছ,একই সবজি রান্না হয়।
এর পরও যদি কারো ভালো না লাগতেই পারে।তাকেও সম্মান।
বহু মানুষ যারা হয়তো কাঁচা লঙ্কায় একটি বারের জন্যেও আসে নি,খায় নি,তারা সবার আগে মন্তব্য করে।
স্থানীয় বহু মানুষের বিশ্বাস কাঁচা লংকা লুটে পুটে নিয়ে যাচ্ছে,লোক ঠকিয়ে খাচ্ছে।
এই সব বলা ভালো বাসার মানুষের আমার প্রণাম।