Da. Appetizer

Da. Appetizer A Quality Chinese Italian Thai Indian and Fast Food Restaurant in Sirajgonj, Bangladesh

ইনশাআল্লাহ আজ থেকে প্রতিদিন পাবেন হায়দ্রাবাদী ও দম বিরিয়ানি
27/04/2026

ইনশাআল্লাহ আজ থেকে প্রতিদিন পাবেন
হায়দ্রাবাদী ও দম বিরিয়ানি

‘বাবা আসেনি এখনো?’ জহির জুতা খুলতে খুলতে জিজ্ঞেস করে। মেঘলা বলে, না আসেনি। বাসা থেকে যাওয়ার সময় বলেছেন ফিরতে দেরি হবে। জ...
25/04/2026

‘বাবা আসেনি এখনো?’ জহির জুতা খুলতে খুলতে জিজ্ঞেস করে। মেঘলা বলে, না আসেনি। বাসা থেকে যাওয়ার সময় বলেছেন ফিরতে দেরি হবে।

জহির পকেট থেকে ফোন বের করে বাবাকে একটা কল দেয়। মিনিট দুয়েক কথা বলেই ফোন রাখে। মেঘলা জিজ্ঞেস করে কি বলেছে? জহির বলে ফিরতে দুই ঘন্টার মতো লাগবে কেবল মিটিং শেষ হলো।

মেঘলা জহিরের শার্ট আর ব্যাগ নিয়ে ঘরের ভিতরে রাখে। জহিরকে জিজ্ঞেস করে কিছু খাবে কিনা। জহির বলে এক কাপ কফি যদি দাও তবে ভালো হবে, শরীরটা কেমন ক্লান্ত লাগছে।

মেঘলা রান্নাঘরের দিকে চলে যায়। জহিরের সাথে মেঘলার বিয়ে হয়েছে আটমাস তেরো দিন হয়। মেঘলার স্বভাব এমন সবকিছু হিসেব করে রাখতে পছন্দ করে, এই যেমন বিয়ের এতো দিন পরেও ঠিক কবে বিয়ে হয়েছে হিসেব করে রেখেছে।

দিনাজপুর শহরের একটা তিনতলা বাড়িতে মেঘলা জহিরের সাথে থাকে। জহিরের মা বেঁচে নেই, বাবা আছেন। তিনজনের এই সংসার। অবশ্য জহিরের দুই বোন আছে। একজন দেশের বাহিরে থাকে আরেকজন রাজশাহী তার বরের সাথে। বছরে দুবার আসেন এখানে।

জহিরের কফি নিয়ে এসে মেঘলা টিভির সামনে বসে। জহির বাসায় আসলে টিভি দেখা নিয়ে দুজনের ঝগড়া হয়। মেঘলা তার পছন্দের সিরিয়াল দেখবে এদিকে জহির দেখবে খেলা। যদিও এই ঝগড়া মেঘলা উপভোগ করে।

সেদিন জহিরের অফিসে কাজের চাপ বেশি ফিরতে রাত হবে কল দিয়ে বলে। তখন মেঘলা তার পছন্দের সিরিয়াল দেখতে বসে যায়, আজকে আর টিভির রিমোট নিয়ে দুজনের ভিতরে ঝগড়া নেই, যেহেতু জহির বাসায় নেই। মেঘলার মন খারাপ হয়ে যায়। তারপর নিজেই কিছুক্ষণ পরপর জহিরের পছন্দের খেলার চ্যানেলে যেয়ে খেলা দেখে। জহিরের উপস্থিতি তখন বুঝতে পারে।

সংসার মেঘলা উপভোগ করে, জহির মানুষ হিসেবে দশে নয় পাওয়ার মতো। বাকি এক দিবে না কারন কিছু বদঅভ্যেস আছে, এই যেমন সিগারেট খায়, গোসলের পরে ভেজা গামছা বিছানার উপর রাখে, ওয়াশরুম থেকে বের হয়ে দরজা খোলা রেখেই চলে আসে। এসব নিয়ে মেঘলা অনেক বলেছে তবে কোনো পরিবর্তন হয়নি, এখনো তেমনই আছে। যখন মেঘলা রাগ করে তখন জহির হেসে দিয়ে বলে কি করবো আমার মনে থাকে না। আর সিগারেট এখন অবশ্য বাসায় বসে খাওয়া বন্ধ করেছে, বাহিরে বসেই খেয়ে আসে।

প্রতিদিনের রুটিন মতোই জহির আর মেঘলার রিমোট নিয়ে ঝগড়া হয়। তারপর হয় চুক্তি কে কতক্ষণ দেখবে। কিছুক্ষণ পরেই কলিং বেলের শব্দ আসে। মেঘলা সোফা থেকে উঠে যেয়ে দরজা খুলে দেখে বাবা দাঁড়িয়ে আছেন।

মেঘলার শ্বশুর মনজুর হোসেন একটা ব্যাংকে চাকরি করে, আজকে রংপুর শহরে তার অফিসের একটা মিটিং ছিলো, ভোরবেলায় উঠেই চলে যান এখন রাত নয়টা চল্লিশে বাসায় ফিরে।

মনজুর হোসেন হাতের ব্যাগটা মেঘলার কাছে দেয়। মেঘলা জিজ্ঞেস করে, ফিরতে এতো দেরি হলো যে? মনজুর হোসেন বলেন, দিনাজপুরে আমার এক কলিগ ছিলো, সুদেব বাবু। এই জায়গা থেকে বদলি হয়ে গেছে দুইবছর হয়, অনেকদিন পরে আজকে অফিসের মিটিং এ দেখা হলো, মিটিং শেষে আড্ডা দিতে যেয়ে দেরি হয়ে গেলো।

মেঘলা হেসে বলল, বাবা তাহলে আপনার ছেলে আড্ডার অভ্যেস আপনার থেকেই পেয়েছে। মনজুর হোসেন হেসে বলে, বহুদিন পরে দেখা তো তাই একটু কথাবার্তা বললাম।

মেঘলা ঘরের ভিতরে আসে। মনজুর হোসেন ওয়াশরুমের দিকে চলে যায়।

মনজুর হোসেন ওয়াশরুম থেকে এসে ছেলের পাশেই বসে। জহির বাবার অফিসের খোঁজ খবর নেয়। কবে অবসরে যাবে সেসব জিজ্ঞেস করে। মনজুর হোসেনের চাকরির বয়স আর একবছর তিন মাস আছে তারপরই অবসরে যাবে।

মেঘলা টেবিলে খাবার দেয়, জহির আর মনজুর হোসেনকে খাবার খেতে আসতে বলে। মনজুর হোসেন বলেন, মেঘলা মা ব্যাগটা কই রাখছো? মেঘলা বলে, বাবা আপনার রুমেই। মনজুর হোসেন বলেন ব্যাগটা একটু দাও একটা জরুরি কাগজ আছে।

মেঘলা ব্যাগ নিয়ে আসে, মনজুর হোসেন কাগজটা বের করে সাথে একটা বিরিয়ানির প্যাকেট বের করে মেঘলার হাতে দেয়।

মনজুর হোসেন বলেন, অফিসের মিটিং থেকে দিয়েছে ভাবলাম তোমার জন্যে নিয়ে আসি। মেঘলা বিরিয়ানির প্যাকেট হাতে দাঁড়িয়ে থাকে চুপচাপ। রংপুর শহর থেকে মানুষটা তার অফিসের মিটিংয়ের বিরিয়ানির প্যাকেট দিনাজপুর নিয়ে এসেছেন।

মেঘলার বাবাও এমন ছিলেন, অফিসে মিটিং হলে যদি ফল বা বিরিয়ানি দিতো বাসা পর্যন্ত নিয়ে আসতেন। মেঘলার বাবা নেই চার বছর হয়, আর এখন তার বিয়ে হয়েছে সে থাকে শ্বশুর বাড়ি। মেয়েদের বিয়ের পরে নাকি অনেক শখ আহ্লাদের কথা ভুলে যেতে হয়।

মেঘলা বিরিয়ানির প্যাকেটের দিকে তাকিয়ে আছে। মনজুর হোসেন বলেন, তাড়াতাড়ি নিয়ে একটু গরম দিয়ে তারপর খাও। সেই দুপুরে দিছে। মেঘলা বিরিয়ানি নিয়ে ওভেনে গরম করে। ঘ্রাণ নিয়ে দেখে এখনো ভালোই আছে।

মেঘলা প্লেটে চিকেন বিরিয়ানি নেয়, ডিমটা জহির নিয়ে নিছে। আরেকটু দিতে চাইলে জহির বলে, আমি খাবো না তুমিই খাও। মেঘলা প্লেটে অর্ধেকটা বাবার জন্যে রাখে। মনজুর হোসেন বলে আমি অনেক কিছু খেয়েছি আজকে তুমি খাও, এখন শুধু অল্প কয়টা ভাতই খাবো।

মেঘলার প্লেটে বিরিয়ানি, ঘ্রাণ নাকে আসছে। এক লোকমা মুখে দিতেই বাবার কথা মনে উঠে। মেঘলার মনে হয় সে এখনো বাবার আহ্লাদের কন্যা হয়েই আছে। বিরিয়ানি খাবার ফাকে ফাকে একবার সামনে বসা তার শ্বশুর মনজুর হোসেনকে দেখছে, মনে হচ্ছে পাশেই মেঘলার বাবা বসে আছে।

মেঘলার গলায় খাবার আটকে যায়, কাশি উঠে, জহির পানির গ্লাস এগিয়ে দেয়। মেঘলার দুই চোখ পানিতে ভর্তি সাথে লাল হয়ে উঠেছে। শাড়ির আঁচল দিয়ে চোখ মুছে নেয়। শুধু গলায় খাবার আটকে যাওয়ার কারনেই চোখে পানি জমেনি সে কথা মেঘলা জানে। মানুষ সারাজীবনই যত্নের পাগল, অফিসের মিটিং শেষে দূরের শহর থেকে ব্যাগে করে নিয়ে আসা এই এক প্যাকেট বিরিয়ানির ভিতরে যে পরিমান যত্ন লুকিয়ে আছে এই যত্নই যে মেঘলার চোখে পানি নিয়ে এসেছে, এ যে সাধারণ কোনো বিরিয়ানি না।

বিরিয়ানি
-মুস্তাকিম বিল্লাহ

হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি Da. Appetizer
24/04/2026

হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি
Da. Appetizer

23/04/2026

দম বিরিয়ানি

আমাদের  হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি এবং দম বিরিয়ানি আগামী ২৬-৫-২০২৬ চালু হবে আপনারা সবাই আমন্ত্রিত
22/04/2026

আমাদের হায়দ্রাবাদি বিরিয়ানি এবং দম বিরিয়ানি আগামী ২৬-৫-২০২৬ চালু হবে
আপনারা সবাই আমন্ত্রিত

আমাদের সিগনেচার আইটেম দুইটা  পিজ্জা এবং বিরিয়ানি  ভিতরে একত্রে কম্বিনেশন পিজ্জায়ানি
20/04/2026

আমাদের সিগনেচার আইটেম দুইটা
পিজ্জা এবং বিরিয়ানি
ভিতরে একত্রে কম্বিনেশন পিজ্জায়ানি

সারাবিশ্বে যুদ্ধ চলছে। দেশে তেল নাই। পেট্রোল পাম্পে বিশাল লাইন। মব আতঙ্কে দেশ। সবকিছু বাদ দিয়ে আমি এই মুহুর্তে খুব গুরুত...
18/04/2026

সারাবিশ্বে যুদ্ধ চলছে। দেশে তেল নাই। পেট্রোল পাম্পে বিশাল লাইন। মব আতঙ্কে দেশ। সবকিছু বাদ দিয়ে আমি এই মুহুর্তে খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা ইস্যু নিয়ে চিন্তিত।

মানুষের কমন একটা ধারণা থাকে যে সব ছেলেই মোটামুটি এক। কিন্তু ধারণাটা যে ভুল, আজ বুঝতে পারলাম শবনম ফারিয়ার হাজবেন্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানার পর। শবনম ফারিয়ার হাজবেন্ডের সামনেই জন্মদিন। শবনম ফারিয়া তাকে সুন্দর কোনো উপহার দিতে চায়। পারফিউম হলে ভালো হয়, তবে অন্য কোনো গিফটের আইডিয়া হলেও চলবে। তবে স্নিকার্স আর ঘড়ি বাদে দিতে হবে। কারণ এগুলা তার হাজবেন্ডের যথেষ্ট আছে। এখন কমেন্টে বহু মানুষ বহু আইডিয়া দিচ্ছে, কিন্তু কোনোটাই যথাযোগ্য হচ্ছে না। এই নিয়ে আমি খুব চিন্তায় আছি। জন্মদিনের তো আর দেরি নাই, এরমধ্যে কোনো গিফট না পেলে তো ঝামেলা হয়ে যাবে। একটু পরপর গিয়ে কমেন্ট চেক করতেছি, কোনো গতি কি হলো? কিন্তু হতাশ হতে হচ্ছে। কারণ ঐ যে বললাম, শবনম ফারিয়ার হাজবেন্ড অন্য ছেলের মত না। একটা ছেলে বিরিয়ানি পছন্দ করে না, এটা কোনো কথা!

এক মেয়ে কমেন্ট করেছে, 'বার্থডের দিন স্পেশাল কিছু রান্না করেন তার জন্য।'
শবনম ফারিয়া রিপ্লাই দিয়েছে, 'তারজন্য রান্না তো প্রতিদিনই করি।'
আরেকজন বলেছে, 'বিরিয়ানি রান্না করেন!'
শবনম ফারিয়া লিখেছে, 'সে বিরুয়ানি পছন্দ করে না।'

যাই হোক, ডিওর সভাজ পারফিউম সাজেস্ট করেছে এক দেড়শো লোক। এটা সে দিতে পারবে না, কারণ এটা বিয়ের সময় ডালাতেই দিয়ে দিছে। অন্যন্য পারফিউমের কথা কমেন্ট করলেই লিখতেছে, 'এটা তার আছে অলরেডি। 😭

আরেকটা পারফিউম একজন সাজেস্ট করেছে, এসিতে বেশিসময় থাকলে সেটা স্যুইটেবল নাকি।
কিন্তু সেটা দেয়া যাবে না, কারণ উনি ক্লায়েন্ট মিটিং এর জন্য আউটডোরে থাকে বেশিরভাগ।
কি এক ঝামেলা বলেন তো। খুব টেনশনে আছি।

ওদিকে মানিব্যাগও দেয়া যাবে না, কারণ মানিব্যাগ শবনম ফারিয়া তাকে আগের জন্মদি্নেই গিফট করেছে। পিএস ফাইভ দেয়া যাবে না, কারণ সে গেম খেলে না।

এক মেয়ে বলেছে, 'সাদা শার্ট কিনে তাতে হাতের কাজ করে দিতে।' কিন্তু এতে নাকি ঐ লোক বলবে, 'শার্ট নষ্ট করা হইছে।'

একজন বলেছে, 'শ্বাশুড়ির সাথে স্বামীর ছবি ফ্রেম করে দিতে। তাহলে উনার শ্বাশুড়ি মারা গেলেও ছবিটা মূল্যবান হয়ে থেকে যাবে।'
শবনম ফারিয়া সেটাও দিবে না, কারণ সে চায় না তার শ্বাশুড়ি এতো জলদি মারা যাক। সে শ্বাশুড়ি হারানোর কথা চিন্তাও করতে পারে না।

একজন বলেছে রোলেক্স দিতে, সেখানে রিপ্লাই দিয়েছে, 'তার রোলেক্স আছে।'
যে এই কমেন্ট করেছে তার ওপর আমারই মেজাজ খারাপ হচ্ছিলো। আরে ভাই শবনম ফারিয়া তো পোস্টেই বলে দিয়েছে ঘড়ির সাজেশন দেয়া যাবে না। হুদাই টাইম নষ্ট করলো আমার ও ফারিয়ার।

একজন আইডিয়া দিয়েছে, টাই, কাফলিংস বা টাই পিন দিতে। অথবা হ্যান্ড রিটেন নোট। বাট দূর্ভাগ্য, ফারিয়া এগুলো সবই লাস্ট বার্থডেতে দিয়ে দিয়েছে।
সেই মুহুর্তে আমার শবনম ফারিয়ার ওপরেই কিছুটা মেজাজ খারাপ হচ্ছিলো। আগের জন্মদিনে এতো উপহার দেয়ার কি দরকার ছিলো!! নাহলে তো এখনো কিছু দেয়ার মত থাকতো।
এমনকি শুজও দেয়া যাবে না। কারণ তিন জোড়া সুজ তাকে শবনম ফারিয়া ঈদেই গিফট করেছে।

মোট এক হাজার কমেন্ট। কোনোটাই পছন্দ হচ্ছে না। পছন্দ হলেও সেটা তার অলরেডি আছেই। অথবা ফারিয়া নিজেই গিফট করেছে আগে।

যাই হোক, এখনো কমেন্ট পড়তেছে। কোনো গতি হলে আপনাদের আপডেট জানাবো। আপনারা দোয়া করতে থাকেন। সময় কিন্তু কম।

এই মুহুর্তে বাংলাদেশের তিনজন মানুষ শবনম ফারিয়ার হাজবেন্ডের পছন্দ অপছন্দ সম্পর্কে সবচেয়ে বেশি জানে। প্রথম তার মা, দ্বিতীয় তার স্ত্রী আর তৃতীয় আমি।

সবকিছু গবেষণা করে এখন আমার মনে হচ্ছে শবনম ফারিয়ার স্বামীর জন্মদিনে দেয়ার মত একটা উপহারই অবশিষ্ট আছে। সেটা হলো, পরিমনির ফোন নাম্বার! 🤫

একটি সত্য ঘটনা:রাত তখন ১২:৩০বসুন্ধরা এরিয়াতে ম্যাক্সিমাম বাড়িতেই ১১ টায় মেইন গেট লক করে দেয়া হয়-আমাদের বাসাতেও সেম-আ...
18/04/2026

একটি সত্য ঘটনা:
রাত তখন ১২:৩০
বসুন্ধরা এরিয়াতে ম্যাক্সিমাম বাড়িতেই ১১ টায় মেইন গেট লক করে দেয়া হয়-
আমাদের বাসাতেও সেম-
আমাদের ফ্ল্যাট টা ৫ তলায়- লিফ্টও অফ করে দেয়া হয়েছে!
আমার ফোনে একটা unknown number থেকে ফোন আসলো-
এতো রাতে unknown num, তাই ধরলাম:

ফোনের ওপার থেকে: হেলো ভাই আমি মফিজ 🥹
আমি: কোন মফিজ? 🤨

- আরে ভাই আমি তোমার ছোট ভাই বাদাম মফিজ 🤥 এটা আমার আরেকটা নাম্বার! (ততক্ষণে আমি চিনতে পারলাম)
- আমি: বল ভাইয়া, এতো রাতে কি ব্যপার?

- ভাই একটা এমার্জেন্সি কাজে একটু ৪ নম্বর রোডে আসতে পারবা? (৪ নাম্বার রোড আমাদের ৬-৭ টা রোড পরেই)
- আমি: তুই বাসার নিচে আয়- এখন বের হমু না! তাছাড়া দারোয়ানও গেট লাগায়া দিছে!

- ভাই একটু আসো খুব পেরেশানি না হইলে তোমারে বলতাম না (এটা ঠিক ওই টাইপ ভাদাইম্মা ছোট ভাই না, ভালো পোলা)
তাই আমিও বাইক এর চাবি আর মানিব্যাগ টা নিয়ে বের হলাম-

সিরি দিয়ে নিচে নেমে- দারোয়ান কে রিকোয়েস্ট করলাম- এমার্জেন্সি- গেট টা একটু খুলেন- ১০ মিন পরে আবার চলে আসতেছি!
দারোয়ান এর মুখটা দেখার মতন ছিলো,
বেচারার তো আবার ভর সকালে উঠতে হয়!
কি আর করবে, মুখ কালা করে খুলে দিলো-

আমিও ওর চোখের দিকে আর না তাকিয়ে বাইক নিয়ে দিলাম টান-
মাথায় নানান জিনিস ঘুরতেছে-
কি টাইপ বিপদ হইলো?
কোনও মইয়া কেচালে পড়ছে? বসুন্ধরা তে আমার চাইতে ওর কানেকশন বেশী আছে, এই টাইপ কাহিনীতে আমারে ডাকবে না-

টাকা লাগবে? টাকা লাগলে bKash এ চাইতে পারতো- ইনস্ট্যান্ট পেয়ে যাইত!

এক্সিডেন্ট করে কারো উপরে বাইক তুলে দিছে? এটা হইতে পারে

এক্স জিএফ সাথে ছিলো নিউটা দেখে ফেলছে?

মানে কি সব যে ভাবতেছি আমি 😳
ভাবতে ভাবতে ৪ নাম্বার রোড এ ঢুকলাম-
রাতের বেলায় নীরব বসুন্ধরা- একদম খালি খাঁ খাঁ-
অন্ধকারাচ্ছন্ন গলি 😟

দূর থেকেই দেখতেছিলাম কয়েকটা বাইক এবং বেশ কয়েকটা পোলাপাইন ওরে ঘিরে দাঁড়ায় আছে! 🤨

আমি তো মোটামোটি রেডি - আচমকা গেঞ্জাম হইলে কোন দিক দিয়া দৌড় দিমু 😄

কাছাকাছি যেয়ে বাইকটা থামালাম-
বাইক দাঁড় করাতে না করাতে দূর থেকে মফিজ আমার দিকে আঙুল দিয়ে কি যেনো দেখছিলো 😲

আমিও বাইক এর চাবি টা পকেট এ নিলাম!
মফিজ সহ আরও ২-৩ টা ছেলে আমার দিকে এগিয়ে আসতে থাকে-
সবার চোখ আমার দিকে 😳
আমিও ওদের গতিবিধি বোঝার ট্রাই করতেছি-
দৌড় দিবো নাকি বাঁচাও বাঁচাও বলে চিল্লানি দিবো-

মফিজ সহ সবার হাত পেছনে, ওদের হাতে কিছু একটা আছে 😒

মফিজ সহ পোলাপাইন গুলা আমার সামনে
আসলো-
এর পরে মফিজ যেটা বললো, সেটার জন্য আমিও মোটেও প্রস্তুত ছিলাম নাহ 🧐

একজন পেছন থেকে কি যেনো সামনে আনলো,
আমি মফিজের দিকে তাকানো 🤥
হাতে হাফ লিটারের একটা খালি বোতল নিয়ে মফিজ বললো-
ভাই বাইকে তেল শেষ একটু তেল দিবা 😬
আরেকজনের হাতে তেল নামানোর পাইপ 🤪
আরও যেই বাইক ২ টা আছে, একটা মফিজের বাইক-
আরেকটা আমার মতন ওর আরেক বড় ভাই, উনারেও তেলের জন্য ডাইকা আনছে এই রাতের বেলায় 😡😡😡

আমার মনডা চৈতেছিলো ওরে অর কানসা বরাবর একটা দেই 🤨 পরে ওর চেহারা দেইখা বুঝলাম, এই গরমে বেচারা ঘাইমা শেষ-
আসলেই পেরেশানিতে না পরলে ডাকতো না-
আর আগে বললে আমি জীবনেও আসতাম না
তাই এই টেকনিক করছে-
পুরা ১০০০ এমএল নিয়া নিছে আমার বাইক থেইকা-
একদিন আগেই ৬ ঘণ্টা লাইনে দাড়ায়া ১০০০ টাকার নিসিলাম 🙂‍↔️

গেলো আমার ১ লিটার স্বর্ণের চাইতে দামি অকটেন 🥸

এমন ছোট ভাই যেনো আপনাদের না থাকে,
আমারই থাকুক 😝
কারন এইগুলা আবার জিগ্রী ছোট ভাই-
যেমন জ্বালায় তেমন মোহাব্বত করে 😂

ইন্টারেষ্টিং মেটার কি জানেন, এতো কাহিনী কইরা তেল নেয়ার পরেও বাইক স্টার্ট দিতে পারে নাই 🤪
তেল শেষ হয়ে যাবার পরে বার বার সেলফ দিয়া বেটারির ১২ টা বাজায় দিছে ! বাইক আর স্টার্ট হয় না 😂

পরে আর কি আমার বাইক আর পা দিয়া ঠেলা দিয়া ওর বাসার গেরেজ পর্যন্ত আগায় দি ছি 😝

লাস্টে আমারে কয় লাভ ইউ ভাই 😳
এখন আপনারাই কন ওর ভালোবাসা ওর কোন দিক দিয়া দেওয়া উচিৎ 😄

যাই হোক, moral of the story:
এই সিচুয়েশনে এমন অনেকেই পরছে, চেনা হোক অচেনা হোক, সম্ভব হইলে হেল্প কইরেন-
কারন
তেল থাকুক আর না থাকুক-
বাইকার দের দিলে বাইকার দের জন্য মোহাব্বত আজীবন থাকবে! 🥰😍

সজিবের শার্টটা নাকে কাছে নিয়ে ভ্রু কুঁচকে ফেলল সোমা। একটা মিষ্টি গন্ধ নাকে লাগছে। ঘড়িতে রাত বারোটা বেজে বায়ান্ন মিনিট। ম...
15/04/2026

সজিবের শার্টটা নাকে কাছে নিয়ে ভ্রু কুঁচকে ফেলল সোমা। একটা মিষ্টি গন্ধ নাকে লাগছে। ঘড়িতে রাত বারোটা বেজে বায়ান্ন মিনিট। মিনিট দুয়েক আগে সজিব বাড়ি ঢুকেছে। পরনের শার্টটা খাটের ওপর ফেলে বাথরুমে শাওয়ার নিচ্ছে। ইদানীং তার ব্যস্ততা বেড়েছে। সোমাকে ঠিকমতো সময় দিতে পারে না। জিজ্ঞেস করলে বলে, “আমি খুব জরুরি একটা কাজ করছি। এই মুহূর্তে তোমাকে কিছু বলতে পারব না।”

সে আগ বাড়িয়ে আর কিছু জিজ্ঞেস করে না। স্বামী হিসাবে সজিব বেশ ভালো। তাকে সন্দেহ করা ঠিক হবে না। সন্দেহ করা ঠিক হবে না– কথাটা শুধু মুখের। সোমা আজ-কাল তাকে সন্দেহ করতে শুরু করেছে। সজিব প্রায় দিনই বাড়ি ফিরতে দেরি করে। দশটা এগারোটা না। কখনো সখনো একটা দু'টো বেজে যায়। ওই রাতে ফিরে সে গোসল করে। কখনো ভাত খায়, কখনো খায় না। শুকনো মুখে বলে, “আমার খেতে ইচ্ছে করছে না।”

কোথায় গিয়েছিলে? কেন দেরি হলো? এ জাতীয় প্রশ্নের কোন জবাব দেয় না সজিব। পাশ ফিরে শুয়ে পড়ে। ক্লান্ত স্বরে বলে, “আজ আমার খুব ঘুম পাচ্ছে। কাল বলব।”

সোমার মন খারাপ হয়। সজিবের এই ব্যবহার একদম নতুন। এর আগে তারা দু'জন কত ভালো সময় কাটিয়েছে। তখন রাত নয়টার ভেতর সজিব বাড়িতে চলে আসত। দু'জনের মধ্যে নানান কথাবার্তা, খুনসুটি হতো। এখন আর সে-সব কিছু হয় না। আগের কথা ভাবতে সোমার চোখে পানি জমে যায়। মনে আনতে না চাওয়া একটা কথায় মাথার ভেতরে উঁকি দিতে থাকে। তবে কী সজিব অন্য কোথাও জড়িয়ে পড়ল? রোজ তার শার্টে যে মিষ্টি গন্ধ লেগে থাকে ওটা কী কোন মেয়ের পারফিউম? তার শরীরের গন্ধ? সোমা আর ভাবতে পারতে পারে না। চোখের পানি মুছে ঘুমানোর চেষ্টা করে। তার চোখে ঘুম নামে না। তিন বছরের সাজানো সংসারের ছন্নছাড়া রূপ দেখে কোন মেয়ের চোখেই বা ঘুম নামতে পারে?

আজ বিকেল থেকে আকাশে মেঘ জমতে শুরু করেছে। দেখে মনে হয় রাতে খুব ঝড়বৃষ্টি হবে। সোমা ছাঁদ থেকে কাপড় তুলে এনে বিছানার উপর রাখল। বালিশের পাশা রাখা মোবাইলটা হাতে নিয়ে সজিবের নম্বরে কল দিলো। দু'বার রিং হওয়ার পর সজিব কল রিসিভ করল। সোমা বলল, “লাঞ্চ করেছ?”

“হ্যাঁ। মাত্রই শেষ করলাম।”

“আগে দুপুরের দিকে একবার কল দিতে। এখন তো আর সে সুযোগ পাও না।”

সজিব একটু লজ্জিত হলো। থতমত গলায় বলল, “অফিসে কাজের চাপ বেড়েছে সোমা। ফোন ধরার সুযোগ হয় না।”

“এই যে, এখন তো কথা বলছ।”

“হ্যাঁ। তা বলছি।”

“সুযোগ কখনো কারো হাতে থাকে না। মানুষ প্রয়োজন অনুযায়ী সুযোগ তৈরি করে নেয়। তোমার কাছে আমি পুরনো হয়ে গেছি। তাই সুযোগ তৈরি করা ইচ্ছে খুঁজে পাচ্ছো না।”

সোমা কল কে'টে দিলো। শেষ কথাগুলো বলতে তার গলা ধরে আসছিল। সোমার ছোট সংসার। ভাড়ার বাসা। শ্বশুর শাশুড়ি নেই। অনেক আগে মা'রা গেছে। গ্রামের বাড়িতে এক চাচা আছে। চাচার ছেলেপেলে আছে ক'জন। বিয়ের সময় তারা ছিল। তারপর আর তেমন যোগাযোগ নেই। সে দীর্ঘশ্বাস ছাড়ল।

এভাবে চলতে পারে না। সজিবের হঠাৎ এই ব্যস্ততা কিসের? কেন এমন করছে? সবকিছুর উত্তর দরকার। সজিব বাড়ি ফিরলে সোমা আজ তাকে এসব প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবে। উত্তর না দিয়ে এড়িয়ে যেতে দেবে না। কোনভাবেই না।

সন্ধ্যা থেকে বৃষ্টি শুরু হয়েছে। এখন রাত নয়টা। বৃষ্টি কমার নাম নিচ্ছে না। সোমা মোবাইল হাতে চেয়ারে বসল। সে বেশ কয়েকবার সজিবকে কল দিয়েছে। সজিব কল রিসিভ করছে না। কলিং বেল বাজছে। সোমা উঠে গিয়ে দরজা খুলে দিলো। রতন দাঁড়িয়ে আছে। সজিবের কলিগ। আগেও বেশ কয়েকবার এ বাসায় এসেছে। সোমা তাকে দেখে হাসার চেষ্টা করল। রতন বলল, “ভাবী আপনার মহাশয় কোথায়? অফিসে ফাইল ভুলে রেখে এসেছে। সেই ফাইল দিতে এই ঝড়বৃষ্টির মধ্যে আবার আমার আসতে হলো।”

“আপনাদের অফিস শেষ? না মানে সজিব এখনও বাড়ি ফেরেনি।”

“সেকি কথা! এখনও বাড়ি ফেরেনি? অফিস ছুটি হয়েছে বিকেল পাঁচটায়। এমনিতে ছয়টার দিকে ছুটি দেয়। আজ আকাশে মেঘ দেখে বড় স্যার আমাদের সবাইকে চলে যেতে বলেছে।”

“ওহ!”

“চিন্তা করবেন না ভাবী। সজিব ভাই মনে হয় বৃষ্টিতে কোথাও আটকে আছে।”

সোমা কিছু বলল না। একমনে দাঁড়িয়ে রইল। রতন বলল, “ভাবী, এই ফাইলটা একটু রাখেন। ভাই ফিরলে তাকে দিয়ে দেবেন। আমি একটু বাড়ি যেতে হবে। আপনাদের ভাবী গরম ভাত তরকারি নিয়ে বসে থাকবে। দেরি করা যাবে না।”

সোমা মুচকি হেসে ফাইল নিলো। দরজা লাগিয়ে চেয়ারে এসে বসল। হঠাৎই তার কিছু ভালো লাগছে না। বাসা থেকে সজিবের অফিসের দূরত্ব চার পাচ কিলোমিটার। এতটুকু আসতে এত সময় লাগার কথা না। তাহলে সজিব কোথায়? সোমা কল দিতে শুরু করল। কল ঢুকছে, কিন্তু কেউ কল রিসিভ করছে না।

সজিব ফিরল রাত বারোটার পর। ফিরেই বাথরুমে ঢুকে গেল। সোমা তার শার্টটা নাকের কাছে নিলো। মিষ্টি গন্ধটা আজ একটু বেশি। সজিব সময় নিয়ে গা গোসল শেষ করল। তোয়ালে দিয়ে মাথা মুছতে মুছতে বলল, “রাতে খাব না। বসে থাকতে হবে না। তুমি ঘুমিয়ে পড়ো।”

“ঘুমানোর আগে আমার কিছু জানার আছে।”

“সোমা, আমার ভীষণ ক্লান্ত লাগছে। ঘুমতে চাই।”

সোমা সজিবের বাহু ধরে ফেলল। ঠিক সেই মুহূর্তে নজরে পড়ল– সজিবের ঘাড়ের কাছে লালচে একটা দাগ। সোমা বলল, “এটা কিসের দাগ?”

“পোকামাকড় কিছু একটা কামড়েছে।”

“নাকি অন্যকিছু? আর তুমি প্রতিদিন এত দেরিতে ফেরো কেন?”

“অফিসে কাজ থাকে। ওরা আমাকে বসিয়ে বসিয়ে বেতন দেয় না।”

সোমার কিছু কঠিন কথা বলতে গিয়ে থেমে গেল। এইভাবে ঝগড়াঝাটি করে কোন লাভ হবে না। যা করার সামনা-সামনি করতে হবে। সে ঠিক করল কাল থেকে সজিবের উপর নজর রাখবে। ঘরে তেমন কোন কাজ নেই। সব গুছিয়ে রাখতে তেমন অসুবিধা হবে না।

ঘরের কাজ বেশি না। তবুও সকাল থেকে সে খুব দ্রুত সব কাজ শেষ করল। রতনের কথামতো অফিস ছুটি হয় ছয়টার দিকে। চারটের মধ্যে তাকে সব গুছিয়ে বেরিয়ে পড়তে হবে। সে তা-ই করল। চারটে বেজে এক মিনিটে ঘরে তালা লাগালো।

সজিবের অফিসের সামনের বিল্ডিংয়ের দোতলায় ক্যাফে আছে। কাঁচের ভেতর থেকে রাস্তার সবকিছু পরিষ্কার দেখা যায়। সোমা আগেভাগে গিয়ে রাস্তার দিকের একটা টেবিলে বসে পড়ল।

সজিব অফিস থেকে বের হয়েছে। সে ঘড়িতে সময় দেখল। ছয়টা বাজতে আট মিনিট বাকি। সোমা ক্যাফে ছেড়ে বেরিয়ে এলো। তবে সামনে গেল না। সজিব তখনও রাস্তার পাশে দাঁড়িয়ে আছে। চা খাচ্ছে। সে চা শেষ করে একটা রিকশায় উঠে বসল। সোমা কিছু না ভেবে অন্য একটা রিকশায় উঠে বসল। রিকশাওয়ালার দিকে পাঁচশ টাকার একটা নোট বাড়িয়ে দিয়ে বলল, “ওই রিকশাটাকে ফলো করেন।”

রিকশাওয়ালা হেসে টাকাটা পকেটে ঢোকালো। রসালো সুরে বলল, “লোকটা কী আমাদের মামা নাকি? ওই রকম কিছু করেছে নাকি?”

সোমার গা জ্বলে গেল। বিরক্ত মুখে বলল, “আপনি রিকশা টান দেন। টাকা লাগে আরও পাঁচশ দেব।”

প্রায় দুই ঘন্টা ধরে রিকশা চলছে। সন্ধ্যা মিলিয়ে গেছে। রিকশাওয়ালা বিরক্ত হচ্ছে, মুখে প্রকাশ করতে পারছে না। সোমার থেকে সে এক হাজার টাকা নিয়েছে। সোমা বলেছে– লাগলে আরও দেবে। এমন খদ্দের সচারাচর পাওয়া যায় না। আজ পেয়েছে। হাতছাড়া করা উচিত হবে না। সোমা চুপচাপ বসে আছে। কথাবার্তা বলছে না। কিছু জিজ্ঞেস করলেও উত্তর দিচ্ছে না। এমন যাত্রী নিয়ে দূরের পথ চলা বেশ কষ্টের।

প্রায় তিন ঘন্টা যাওয়ার পর রিকশা নামল। গ্রামের এলাকা। চারদিকে ঝিঁঝিঁপোকা ডাকছে। রাতের অন্ধকার যেমন গাঢ় হওয়ার কথা ছিল, তেমন না। আকাশে চাঁদ আছে। চাঁদের আলোয় সবকিছু পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে। সোমা যতদূর জানে সজিবের এদিকে কোন আত্মীয় নেই। তাহলে সে এতদূর কার কাছে এলো? সোমার আর দেরি করতে পারল না। তড়িঘড়ি করে রিকশা থেকে নামাল। রিকশাওয়ালা বলল, “ও আপা, চা নাস্তার জন্য কিছু দেন।”

সোমা ব্যাগ থেকে এক হাজার টাকার একটা নোট বের করে রিকশাওয়ালার হাতে দিলো। সজিব চোখের বাইরে চলে যাচ্ছে। সে ফোনের টর্চ জ্বেলে সজিবের পেছনে হাঁটতে শুরু করল। খানিকটা যাওয়ার পর সোমা বুঝল সে অনেক বড় বোকামি করে ফেলেছে৷ এই রাতে এইভাবে এতদূর চলে আসা একটুও ঠিক হয়নি। সে কোন বিপদ হতে পারত। রিকশাওয়ালা ভুলভাল কিছু করে বসলেও কোন উপায় ছিল না। সোমা নিজের মাথায় থা’প্প’ড় মা’র’ল। ফোন বের করে তার ভাইয়ের নম্বরে কল দিয়ে বলল, “ভাই, তুই কোথায়?”

“এইতো, বন্ধুরা মিলে আড্ডা দিচ্ছি।”

“কে কে আছে?”

“আছে সবাই। কেন জিজ্ঞেস করছ?”

“আমি তোকে একটা লোকেশন পাঠাচ্ছি। তড়িঘড়ি করে সবাইকে নিয়ে সেখানে চলে আয়। আমি একা আছি। কোন প্রশ্ন করিস না। উত্তর দেওয়ার সময় নেই।”

সোমা কল কে'টে দিলো। ভাগ্যিস নেটওয়ার্ক আছে, না হলে যে কী হতো! সজিব হাঁটছে, এত রাতে সোমা তার পেছনে থাকতে পারে এ চিন্তা তার মাথায় আসেনি। আসা সম্ভবও না। সোমা বরাবর খুব ভিতু মেয়ে। রাতের বেলা বারান্দায় যেতে ভয় পায়। আজ সেই মেয়ে কি-না একা একা স্বামীর পেছনে এতদূর চলে এসেছে। কী অদ্ভুত!

খানিকটা যেতেই সোমার নাকে পরিচিত একটা গন্ধ লাগল। কামিনী ফুলের গন্ধ। শার্টে ওইভাবে বোঝা যায় না। রাস্তার দু'পাশে চারাগাছ। সেই গাছে ফুল ফুটে আছে। হাঁটার সময়ে গায়ে গাছের ছোঁয়া লাগছে। সোমা সরু পথ থেকে বেশ অনেকটা এগিয়ে এলো। সামনে ছোট একটা মাঠ, মাঠের একপাশে নতুন ক'ব'র। বাঁশের কঞ্চিতে দিয়ে ঘিরে রাখা হয়েছে। সজিব ক'ব'রের সামনে গিয়ে বসে পড়ল। খানিকক্ষণ পর তিনটে ছেলে এসে সজিবের পাশে বসল। সজিব বলল, “তোরা এখানে?”

“হ্যাঁ, আমরা। তোমার অবস্থা দেখতে এলাম।”

সোমা পাশের বটগাছের আড়ালে লুকিয়ে আছে। ছেলেটার গলার স্বর তার পরিচিত মনে হচ্ছে। কোথায় যেন শুনেছে। তবে এই মুহূর্তে মনে করতে পারছে না।

ছেলেটা বলল, “মায়ের ক'ব'রের টোপটা ভালোই গিলেছ!”

সজিব বলল, “এ কথার মানে কী?”

ছেলে তিনটে হো হো করে হেসে উঠল। একজন অন্যজনের দিকে তাকিয়ে বলল, “বলে দেব নাকি?”

“হ্যাঁ হ্যাঁ বলে দে। শুনেছি অতৃপ্ত বাসনা নিয়ে ম'র'লে মানুষের আত্মা ফিরে আসে। তখন আবার কেন আমাদের ঘাড় মটকালো!”

আরেক দফা হাসির শব্দ শোনা গেল। সজিব বলল, “এগুলো কী ধরনের মজা?”

“মজা না সোনা, সাজা। আমরা তোমার সাথে মজা করতে আসিনি। তোমাকে সাজা দিতে এসেছি। উফফ! এসেছি বলছি কেন? সেই বিকেল থেকে এখানে বসে মশার কামড় খাচ্ছি।”

“তোদের কথা কিছু বুঝতে পারছি না।”

“এই তোরা শোন, নেদাবাবু কিছু বুঝতে পারছে না। আচ্ছা বসো। এখানে আয়েশ করে বসো। তারপর বুঝিয়ে বলি।”

সবাই বসে পড়ল। দু'জন সজিবের পেছনে বসেছে। একজন সামনে। বসার ধরন দেখে মনে হচ্ছে সজিব যেন পালিয়ে যেতে না পারে। সোমা শুকনো ঢোক গিলল। ভয়ে তার হাত পা কাঁপছে।

ছেলেটা বলল, “ভাই, আমাদের তো চিনতে পেরেছ নাকি?”

সজিব বলল, “হ্যাঁ, চিনেছি।”

“বেশ ভালো কথা। তা-ও একবার পরিচয় দিচ্ছি। আমরা তোমার একমাত্র চাচার বড় তিন ছেলে। হোসেন, আলী আর তামিম। সম্পর্কে তোমার চাচাতো ভাই।”

“এত পরিচয় দিতে হবে না।”

“আরে পরিচয় দিতে হবে না কেন! বলে রাখি। এবার আসল কথা শোনো, তুমি কী জানো তোমার বাপের জমিজমার পরিমাণ কত?”

“না, জানি না। গ্রামে কিছু আছে কি-না চাচা ভালো জানেন।”

“ঠিক কথা। তুমি কিছু জানো না। তোমার চাচা মানে আমার আব্বা জানে, আর আমরা জানি। দাদার জমির অর্ধেক ভাগ করলে তুমি একা পাবে পনেরো বিঘে, বড় চাচা এর সাথে আরও ছয় বিঘে কিনে রেখে গেছে। এদিকে আমাদের অবস্থা শূন্য। আব্বা নিজের ভাগের জমি বিক্রি করতে করতে আঠারো কাঠায় এসে ঠেক খেয়েছে। হিসেব করলে আমরা এক ভাই দুই কাঠা করে ভাগে পাচ্ছি। এটা কী ইনসাফ হলো?”

“আমায় কী করতে বলো? আমার ভাগ থেকে তোমাদের কিছু জমি দেব?”

“কিছু জমি? হ্যাঁ, তা তুমি কতটুকু করে দেবে?”

“তোমরা আমার আপনজন। এক বিঘা করেই না হয় নিলে।”

“ভালো প্রস্তাব। এখনকার দিনে এক বিঘে বিশাল কথা।”

“তোমরা আমার পর কেউ না। ছোট থেকে চাচা আমাকে নিজের ছেলের মতো ভালোবেসেছে। তাছাড়া গ্রামে যাওয়ার তেমন ইচ্ছে কোন ইচ্ছে আমার নেই। শহরের দিকে চাকরি-বাকরি করি। এদিকেই থাকার ইচ্ছে।”

“তা ভালো। শুনেছি তুমি খুব ভালো ছাত্র। একটা হিসাব করো। তুমি বেঁচে থাকলে আমরা তোমার ভাগ থেকে এক বিঘে করে পাব। আর তুমি ম'রে গেলে? ওহো! তোমার তো আবার ছেলেপুলে নেই।”

সোমার মেরুদণ্ডের ভেতরে একটা হিমশীতল স্রোত বয়ে গেল। ছেলেগুলো বলল, “শুধু শুধু তোমার মায়ের ক'ব'রের নাটক সাজাইনি। এখানে এই ক'ব'র বানাতে তিন তিনটে দিন সময় লেগেছে। তারপর তোমার এখানে আনা। নিয়ম করে চল্লিশ দিন এক ঘন্টা ক'ব'রের পাশে বসে দোয়া করতে বলা, কাউকে কিছু না জানানো সবটাই তো সাজানো।”

“সবকিছু সাজানো মানে? আমাকে তো এক হুজুর বলেছিল।”

“কী বলছিল হুজুর? কী বলেছিল?”

সজিব কথার জবাব দিলো না। চুপ করে রইল। ওদের একজন বলল, “আব্বা এই ছেলেকে মেধাবী বলে। আরে ওই হুজুর টুজুর সব ভং। আমাদের এই তামিমই হুজুর সেজে তোমার অফিসে গিয়ে ওসব বলে এসেছে। আব্বা তোমাকে মেধাবী বলে! তোমার চেয়ে তো তামিমের মাথার বুদ্ধি বেশি৷ কায়দা করে কাউকে না জানানোর কথাও বলেছিল। এখন তোমাকে মে’রে এই ক'ব'রে পুঁতে দিলেও কেউ কিছু বুঝতে না। তোমার বউ ভাববে– মেয়ে নিয়ে পালিয়ে গেছে। শেষ ক'দিন যে রাত করে বাসায় গেছ তাতে সে এতক্ষণে ধরে নিয়েছে তোমার অন্য মেয়ের সাথে লটরপটর আছে।”

সজিব বলল, “না, সোমা এমন মেয়ে না। ও এসব মনে করবে না। ও আমায় খুঁজবে।”

“খুঁজে কী লাভ সোনা? তোমায় পাবে কোথায়? আর পেলেও পাবে লা'শ। তা-ও পঁচাগলা।”

সোমা আর ভাবতে পারল না। এক হাত দিয়ে নিজের মুখ চেপে ধরল। সে মনে মনে আল্লাহকে ডাকছে। এর মধ্যে যদি তার ভাইটা চলে আসত।

বোধকরি আল্লাহ তার কথা শুনলো। চারটে মোটরসাইকেলে নয়জন লোক এসে বটগাছের পাশে দাঁড়াল। সোমা বলল, “ওরা তোর দুলাভাইকে মে'রে ফেলবে।”

তারপরের ঘটনা খুব সংক্ষিপ্ত। তিন ভাইকে থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সজিব তখনও কিছু বুঝে উঠতে পারছে না। সে সোমার হাত ধরে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। ছেলে মানুষ নাকি কাঁদে না। অথচ সজিব কাঁদছে। সবার সামনেই কাঁদছে। কী অদ্ভুত! বৃষ্টি শুরু হয়েছে। বৃষ্টি ঝমঝম শব্দ কানে বাজছে। ভালো লাগছে শুনতে।

©ফারহানা কবীর মানাল*

একটি পশু চিকিৎসা ক্লিনিকের সিসিটিভি ক্যামেরা মাসের পর মাস একই দৃশ্য রেকর্ড করছিল—পোষা প্রাণী নিয়ে আসা মালিক, নার্ভাস ঘেউ...
15/04/2026

একটি পশু চিকিৎসা ক্লিনিকের সিসিটিভি ক্যামেরা মাসের পর মাস একই দৃশ্য রেকর্ড করছিল—পোষা প্রাণী নিয়ে আসা মালিক, নার্ভাস ঘেউ ঘেউ, ক্যারিয়ারে লুকিয়ে থাকা বিড়াল, আর ধৈর্যশীল রিসেপশনিস্টদের হাসি। সবই স্বাভাবিক… সেই রাত পর্যন্ত।

রাত ২:১৭ মিনিট। মোশন সেন্সরে ক্যামেরা চালু হলো। বাইরে নিস্তব্ধ রাস্তা, ভেতরে অন্ধকার। ঠিক তখনই ধীরে ধীরে একটি ছায়া এগিয়ে এলো…

একটি পথকুকুর।

ময়লা লোম, ক্লান্ত শরীর, হালকা খোঁড়ানো পা। কিন্তু সবচেয়ে অবাক করা বিষয়—তার মুখে ছিল একটি ছোট কাপড়ে মোড়ানো পুঁটলি।

সে দরজার সামনে এসে খুব যত্ন করে পুঁটলিটা মাটিতে রাখল। তারপর ধীরে ধীরে পা তুলে দরজায় ঠুকল… একবার… দু’বার…

অপেক্ষা করল।

কেউ এল না।

আবার ঠুকল, এবার একটু জোরে। সাথে হালকা কুঁই কুঁই শব্দ। কিছু সময় কেটে গেল… শেষে একটা ছোট্ট হাউমাউ করে উঠল, যেন শেষ চেষ্টা।

কাপড়ের ভেতর নড়াচড়া…

একটি ছোট্ট বাচ্চা কুকুর।
অত্যন্ত দুর্বল… প্রায় নিঃশ্বাসহীন।

বড় কুকুরটি চলে যায়নি। দরজার সামনে বসে রইল, পাহারা দিতে লাগল। মাঝে মাঝে নাক দিয়ে ছুঁয়ে দেখছিল—বাচ্চাটি বেঁচে আছে কি না।

রাত ২:২৪। হঠাৎ ভেতরে আলো জ্বলে উঠল। উপরতলায় থাকা এক ভেটেরিনারিয়ান শব্দ শুনে নেমে এলেন।

দরজা খুলতেই তিনি থমকে গেলেন।

কুকুরটি পালায়নি।

বরং এক পা পিছিয়ে গিয়ে প্রথমে মানুষের দিকে তাকাল… তারপর বাচ্চাটার দিকে… আবার মানুষের দিকে।

কিছু বলার দরকার ছিল না।

ভেটেরিনারিয়ান দ্রুত বাচ্চাটিকে তুলে ভেতরে নিয়ে গেলেন। যাওয়ার আগে বললেন—
“থাকো।”

আর কুকুরটি থেকে গেল।

ভেতরে শুরু হলো জীবন বাঁচানোর লড়াই—অক্সিজেন, গরম, স্যালাইন… সবকিছু একসাথে। আর বাইরে, কুকুরটি প্রায় এক ঘণ্টা একই জায়গায় বসে রইল।

অবশেষে দরজা খুলল।

ভেটেরিনারিয়ান ক্লান্ত মুখে হেসে বললেন—
“ও বাঁচবে।”

কুকুরটি ধীরে ধীরে লেজ নাড়াল… তারপর একটু এগিয়ে এসে মানুষের পায়ে মাথা রাখল।

কৃতজ্ঞতা… নিঃশব্দে।

পরদিন সকালে সবাই ফুটেজ দেখে চোখের পানি ধরে রাখতে পারেনি। কিন্তু গল্প এখানেই শেষ নয়…

কুকুরটি আর চলে যায়নি।

দিনের পর দিন ক্লিনিকের সামনে বসে ছিল…
শেষ পর্যন্ত তাকে ভেতরে নিয়ে নেওয়া হলো।

আজ সে আর পথকুকুর নয়।
আর যে বাচ্চাটিকে সে বাঁচিয়েছিল—সে এখন প্রতিরাতে তার পাশেই ঘুমায়।

আমার জিএফ একটা সুন্দর পারশিয়ান বিড়াল পোষে। বিড়াল এর নাম দিছে জিকো। তো ফোন করে বলতেছে -"এই শুন, কোন মেয়েবাবু পাইলে জানাইয়...
08/04/2026

আমার জিএফ একটা সুন্দর পারশিয়ান বিড়াল পোষে। বিড়াল এর নাম দিছে জিকো। তো ফোন করে বলতেছে -"এই শুন, কোন মেয়েবাবু পাইলে জানাইয়ো তো। জিকো হিট এ আছে, অনেক কষ্ট পাচ্ছে বাবুটা"। আমি বললাম -"এত ঝামেলা না নিয়ে নিউটার করায় দিলেই তো পার "

তখন সে বলল -"তুমি এমন কেন? আজকে তোমার সাথে এরকম করলে কেমন লাগত? ও বোবা বলেই কি সব অত্যাচার ওর উপর করি আমরা? তোমাকে অন্য রকম ভাবছিলাম "

আমি দেখলাম মেয়ের মধ্যে তো অনেক মায়া। তাই আমিও একটু আদুরে গলায় বললাম -
"এই শোন, আমিও মনে হয় আজকাল মাঝেমধ্যে হিট এ থাকি, আমার দিকটাও যদি--"

এইটা বলার সাথে সাথেই ওপাশ থেকে আওয়াজ
আসল - "লুইচ্চা বেটা, দূর এ যেয়ে মর "

এখন দেখি সবখান থেকে ব্লক মেরে রাখছে। ফেক আইডি থেকে চেক করে দেখি সে পোস্ট দিচ্ছে -

"In the end, he just wants your body"

সেইখানে আবার তার বান্ধবীগুলা তেলায় কমেন্ট করছে - "Told you, he doesn’t deserve you "। আর ফ্রেন্ডলিস্ট এর ছেলেগুলা লাইন মারার ট্রাই করতেছে। কী সর্বনাশ হয়ে গেল আমার!😭 কত কাঠ-খড় পুড়ায় সেটিং দিছিলাম!

Address

SS Road, Sirajgonj
Sirajganj
6700

Opening Hours

Monday 10:00 - 22:00
Tuesday 10:00 - 22:00
Wednesday 10:00 - 22:00
Thursday 10:00 - 22:00
Friday 10:00 - 22:00
Saturday 10:00 - 22:00
Sunday 10:00 - 22:00

Telephone

+8801725323344

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Da. Appetizer posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Share