05/02/2023
হিরো আলম ও সম্ভ্রমহীন গনতন্ত্র।
হিরো আলমকে সাংসদ হিসেবে যোগ্য মনে করার একমাত্র কারন হতে পারে এরকম বা এরচেয়ে'ও খারাপ সাংসদ বর্তমান সংসদে আছে এই যুক্তিতে। অর্থাৎ যোগ্যতার মাপকাঠি হলো অযোগ্যতার তুলনা। একথা আমি পূর্বেই বলেছি। কিন্তু জনগণের ভোটে যদি কেউ নির্বাচিত হয় তবে কারচুপির মাধ্যমে কাউকে হারানো কখনোই আমার কাছে গ্রহনযোগ্য নয়। ৫২ বছরের একটা স্বাধীন দেশের সরকার এভাবে হিরো আলমের কাছে গনতন্ত্রকে উলংগ করে দিবে তা বিশ্বাস করা কঠিন। যে সরকার একজন হিরো আলমের জয় ঠেকাতে উন্নয়নের মহাসড়ক থেকে চোরা গলিপথে হেঁটে বেড়ায় তাদের আর যাই হোক বীরত্ব করার কিছু নেই। হিরো আলমের কাছে সম্ভ্রম হারানো সরকারের মুখে দলীয় সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন কেমন হবে তা সহজেই অনুমিত।
একমাত্র শিক্ষাগত যোগ্যতা কারো সাংসদ হওয়ার ক্ষেত্রে বিবেচ্য হতে পারে না। জাতীয় পর্যায়ে যদি বিশেষ কোন ভূমিকা কেউ রাখতে পারে তবে তাকে শ্রদ্ধা না করার কোন কারন নেই। শিল্প সাহিত্য, সংস্কৃতি, ক্রীড়া, ব্যবসা তা যেকোন ক্ষেত্রেই হতে পারে। উদাহরণস্বরূপ বলি, জাতীয় দলের সাবেক খেলোয়াড় মোহাম্মদ রফিকের তেমন কোন শিক্ষাগত যোগ্যতা নেই। কিন্তু তার প্রতি আমার ভক্তির কমতি নেই। কিন্তু যার কোন ক্ষেত্রেই কোন অবদান নেই ( শুধুমাত্র শিল্প সাহিত্য, সংস্কৃতি নিয়ে ফাজলামো করা ছাড়া) তার প্রতি খেদ যেমন নেই, তেমনি তাকে সাংসদ হিসেবে যোগ্য মনে করার রুচিও আমার নেই। এখন প্রশ্ন হলো এমন অযোগ্য লোক কি করে কতিপয়শ্রেণীর কাছে যোগ্য হয়ে উঠলো। আমার মনে হয় হিরো আলম যতটা যোগ্য হয়ে উঠেছে তারচেয়ে বেশী যোগ্য করে তোলা হয়েছে। আর এই কাজটা করেছে সরকার, প্রশাসন, ইলেকট্রনিক, প্রিন্টিং ও সোশ্যাল মিডিয়া।
সরকার বিগত এক দশক ক্ষমতায় থাকতে গিয়ে এমন সব লোককে এমন সব জায়গায় পদায়ন করেছে, রাজনীতিতে এমন সব মানুষকে অন্তর্ভুক্ত করেছে যে আমাদের অটোপাস উঠতি যুবসমাজ এখন আশরাফুল আলমকেই হিরো আলম হিসেবে বিবেচনাহীন ভাবে হৃদয়ে স্থান দিতে শুরু করেছে। বিষয়টা এমন বহুদিন শৃঙ্খলিত ব্যক্তি মুক্তি পেলেও যেমন নিজেকে শৃঙ্খলিত ভাবে তেমনি শৃঙ্খলিত যুবসমাজও আজ চিন্তা চেতনায় শমঙ্খলিত। আর একটা কারন হতে পারে এদের সামনে হিরো হওয়ার মতো কোন উদাহরন নেই।
প্রশাসন সরকারের আজ্ঞাবহ হতে গিয়ে চাটুকারিতায় এতটাই ব্যস্ত যে হিরো আলমকে হুমকি ধামকি দিয়ে একেবারে আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় তুলে দিল। তারপর সাংসদ হওয়া ঠেকাতে গনতন্ত্রকে বানিয়ে দিল হিরো আলমের নেংটি। এই নেংটির গিট্টু এখন হিরো আলমের হাতে। হিরো আলম নেংটির গিট্টু কতটা কি করে তা দেখার অপেক্ষায় জনগন।
এদেশের ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্টিং মিডিয়া নিয়ে আমি বহুকাল ধরেই হতাশ। যে দেশের ইলেকট্রনিক এবং প্রিন্টিং মিডিয়া জ্ঞান বিজ্ঞানের খবর রেখে শুধুমাত্র ব্যবসায়িক ধান্ধায় নায়ক নায়িকার কিচ্ছা কাহিনি নিয়ে খবরের পর খবর প্রকাশ করে তাদের কাছে হিরো আলম বিরাট খবর। বছরের পর বছর এসব অখবর কুখবর প্রচারের ফজিলত আজকের হিরো আলম। সোশ্যাল মিডিয়া সম্পর্কে সংক্ষেপে বললে বলতে হয় যে ব্যক্তি অস্ত্র ব্যবহার করতে জানে না তার কাছে অস্ত্র থাকা তার জন্য এমন অনিরাপদ তেমনি আশেপাশের মানুষের জন্যও।
এক হিরো আলম নির্বাচনে অংশ নিয়ে গনতন্ত্রের মৌলিকত্বকে যে প্রশ্নের মুখোমুখি দাঁড় করিয়ে দিয়েছেন এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। গনতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রার্থীর মৌলিক যোগ্যতা কি আজ এমন প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে আছি আমরা। আবার একই সাথে হিরো আলমকে ঠেকাতে গিয়ে রাষ্ট্রের যে সম্ভ্রমহানি হলো তাতে গনতন্ত্র কি লজ্জা পেলো না? অর্থাৎ হিরো আলম একই সাথে গনতন্ত্রে সাংসদ হওয়ার যোগ্যতা, নির্বাচনে জয় পরাজয় এবং সর্বোপরি মানুষের রুচিবোধের সংকটের যে বহুমাত্রিক সংকট উম্মুক্ত করলেন তা জাতি হিসেবে আমাদেরকে নতুন করে নিশ্চয়ই ভাবাবে?
এসব বহুমাত্রিক ভাবনার জন্যও কেউ কেউ আশরাফুল আলমকে হিরো আলম ভেবে ভুল করতে পারেন। বাস্তবতা হলো এর সবটাই জনাব আশরাফুল আলমের চিন্তা চেতনার বাইরের হিসেব নিকেশ। তিনি কোনটাই সজ্ঞানে আমাদের সামনে আনেননি। বরং উনি একটা সুযোগ নিয়ে (যেহেতু বিএনপি নির্বাচনে অংশ নেয়নি তাই এন্টি আওয়ামী লীগ ভোটের মাধ্যমে সাংসদ হতে চেয়েছিলেন। এমন সুযোগ উনার মতো আরো অনেকেই নিতে চেয়েছিলেন) সাংসদ হতে চেয়েছিলেন।
... নিঃশব্দ নাগরিক।