27/04/2022
ঈদের দিনের জন্য সব স্পেশাল খাবারের রেসিপি:
সবাইকে ঈদুল ফিতরের অগ্রিম অনেক অনেক শুভেচ্ছা। মজার মজার সব রান্না করা খাবার ঈদের আনন্দকে আরও বেশী উপভোগ্য করে তোলে। আপনাদের সবার সাথে ঈদের এই আনন্দকে শেয়ার করতে হরেক রকম মজাদার খাবার
১। মিষ্টি দই :
উপকরন :
দুধ ১ লিটার
চিনি ৩/৪ কাপ
১ টেবিল চামচ খেজুর গুঁড় (ফ্লেবারের জন্য)
টকদই ২/৩ কাপ
প্রনালি :
১। টক দই ঘণ্টাখানেকের মত ছাঁকনিতে রেখে দই থেকে সমস্ত পানি ঝরিয়ে নিন।
২। একটি পাত্রে ১/৪ কাপ চিনি ও ১ টেবিল চামচ পানি মিশিয়ে ক্যারামেল তৈরি করে নিন।
৩। এখন ক্যারামেলের সুন্দর কালার চলে আসলে এর মধ্যে ১/২ কাপ দুধ ঢেলে অল্প আঁচে সব নেড়ে মিশিয়ে দিন। এই মিশ্রণের সাথে ১ টেবিল চামচ খেজুরের গুঁড় মিশিয়ে নিন।
৪। এরপর আলাদা পাত্রে বাকি দুধ জ্বাল দিন। দুধ ফুটে উঠলে ১/২ কাপ চিনি দিন। চুলার আঁচ মাঝারি রেখে দুধ ঘন ঘন নেড়ে দিন যাতে পাত্রের তলায় লেগে না যায়।
৫। দুধ মোট তিন থেকে চার বার ফুটিয়ে এর মধ্যে আগে থেকে তৈরি করে রাখা ক্যারামেল দুধের মিশ্রণ ঢেলে দুধ আরো একবার ভালভাবে ফুটিয়ে চুলা থেকে নামিয়ে নিন।
৬।এখন একটি বোলে পানি ঝরানো টক দইটা নিয়ে হুইস্ক দিয়ে ভাল করে দইটা ফেটে নিন।
৭। দুধের গরম ভাব কিছুটা কমে আঙুল সহ্য করতে পারে এমন হাল্কা কুসুম গরম দুধ ফেটানো টক দইয়ের মধ্যে ঢেলে ভালকরে নেড়ে নেড়ে মিশিয়ে দিন।
৮। এখন এই মিশ্রণটি একটু উপর থেকে ধরে দইয়ের হাঁড়িতে ঢেলে দিন। এরপর আর দইএর পাত্র বেশি নাড়াচাড়া করবেন না।
৯। দইয়ের পাত্রটি ঢাকনা বা এলুমিনিয়াম ফয়েলে মুড়িয়ে গরম তোয়ালে দিয়ে ভাল করে ঢেকে দিন। এরপর রান্নাঘরের গরম কোন জায়গায় সারারাত রেখে দিন। সকালে দেখবেন দই সুন্দর জমে গেছে।
১০। দই জমে গেলে দইএর পাত্র বেশি নাড়াচাড়া না করে দই ফ্রিজে ৩-৪ ঘণ্টার জন্য রেখে দিন, এতে দই আরও সুন্দর সেট হবে।
১১। এরপর পরিবেশন করুন ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা মজাদার মিষ্টি দই।
২। সাবুদানার পায়েস :
উপকরন :
সাবুদানা ১/৩ কাপ
তরল দুধ ৩ কাপ
গুঁড়া দুধ ১/২ কাপ
চিনি ১/২ কাপ বা স্বাদমত
হ্যাভি ক্রিম ১ কাপ
লবন ১ চিমটি
কেওড়া জল ১/২ চা চামচ
বাদাম কুঁচি ১/৪ কাপ
মোরব্বা ইচ্ছামত
প্রনালি :
১। প্রথমে সাবুদানা ধুয়ে আধা ঘণ্টা পানিতে ভিজিয়ে রাখুন। এরপর পানি ছেঁকে ১ ১/২ কাপ পানি সহ সাবুদানা চুলায় জ্বাল দিন। চুলার আঁচ মাঝারি রেখে সাবুদানা ঘন ঘন নেড়ে সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত রান্না করুন।
২। সাবুদানা সিদ্ধ হয়ে এর আকার দ্বিগুণ হয়ে গেলে পাত্র চুলা থেকে নামিয়ে দিন।
৩। আলাদা পাত্রে দুধ জ্বাল দিন। দুধের সাথে গুঁড়া দুধ এবং চিনি দিয়ে ভাল করে মিশিয়ে নিন। এক চিমটি লবন দিন।
৪। দুধ কমে অর্ধেক হয়ে গেলে এখন এর মধ্যে ক্রিম দিন। আগে থেকে সিদ্ধ করে রাখা সাবুদানা ঢেলে ভাল করে নেড়ে দিন।
৫। পায়েস ভাল করে ফুটে উঠলে চুলা বন্ধ করে দিন। পায়েসে গোলাপজল দিন।
৬। পায়েস সারভিং ডিসে ঢেলে উপরে বাদাম, মোরব্বা কুঁচি দিয়ে সাজিয়ে ফ্রিজে রেখে ঠাণ্ডা করে নিন। এরপর পরিবেশন করুন মুখরোচক সাবুদানার পায়েস।
৩। ফ্রুট কাস্টার্ড :
উপকরন :
ইভাপোরেটেড মিল্ক ১ ক্যান (৩৫৪ মিলি)
হ্যাভি ক্রিম ১/২ কাপ
চিনি ৩ টেবিল চামচ বা স্বাদমত
কর্ণফ্লাওয়ার ১ ১/২ টেবিল চামচ
ডিমের কুসুম ১ টি
ভ্যানিলা এসেন্স ১ চা চামচ
ইচ্ছামত ফ্রুট (স্ট্রবেরি, কলা, আপেল, আঙ্গুর, আম, বেদানা)
জেলো ১/২ কাপ (২ ফ্লেভারের)
প্রনালি :
১। প্রথমে প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলো তৈরি করে ফ্রিজে রেখে দিন সেট হবার জন্য।
২। এরপর একটি পাত্রে ইভাপোরেটেড মিল্ক, হ্যাভি ক্রিম, চিনি, কর্ণফ্লাওয়ার, ভ্যানিলা এসেন্স এবং ডিমের কুসুম নিয়ে সব একসাথে ভালকরে মিশিয়ে নিন।
৩। পাত্রটি চুলায় বসিয়ে দিয়ে মাঝারী আঁচে জ্বাল দিন। মিশ্রণটি ঘন ঘন নাড়ুন যাতে দুধ পাত্রের নিচে না লেগে যায়।
৪। জ্বাল দিতে দিতে দুধের মিশ্রণ ঘন হয়ে গেলে চুলা বন্ধ করে দিয়ে পাত্র চুলা থেকে নামিয়ে নিন।
৫। এখন রুম টেম্পারেচারে দুধ ঠাণ্ডা করে নিয়ে ফ্রিজে রেখে দিন ২ ঘণ্টা।
৬। এরপর পছন্দসই ফল এবং জেলো কেটে কাস্টার্ডের সাথে মিশিয়ে পরিবেশন করুন।
৬। শামি কাবাব :
উপকরন :
মাংস রান্নার জন্য
হাড় ও চর্বি ছাড়া গরুর মাংস ৫০০ গ্রাম
বুটের ডাল ১/৪ কাপ
পেয়াজ মোটা কুচি ১/৩ কাপ
কাঁচা মরিচ ২ টি
আদা বাটা ১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা ১ টেবিল চামচ
জিরা গুড়া ১ চা চামচ
হলুদ ১/৪ চা চামচ
মরিচ গুড়া ১/৪ চা চামচ
গোলমরিচ ১/২ চা চামচ
ধনিয়া গুড়া ১ চা চামচ
মৌরি ১ চা চামচ
জয়ফল ১/২ চা চামচ
জয়িত্রী ১/৮ চা চামচ
দারচিনি ৩ টুকরা, তেজপাতা ২ টি, এলাচ ৫ টি, লবঙ্গ ৬ টি
লবন পরিমানমত
কাবাব তৈরির জন্য-
কাঁচামরিচ মিহি কুচি ১ টেবিল চামচ
পেয়াজ মিহি কুচি ২ টেবিল চামচ
ধনিয়া পাতা কুচি ২ টেবিল চামচ
টমেটো সস ১/২ চা চামচ
টালা জিরা গুড়া ১ চা চামচ
ডিম ১ টি
টোস্টের গুঁড়া ১/৪ কাপ
তেল (কাবাব ভাজার জন্য)
প্রনালি :
১। পাত্রে মাংস, পেয়াজ,মরিচ, আদা বাটা, রসুন বাটা, জিরা, হলুদ,গোলমরিচ, ধনিয়া, মৌরি, জয়ফল, জয়িত্রী, লবন ও সমস্ত গরম মশলা একসাথে মেখে পরিমান মত পানি দিয়ে সিদ্ধ করে নিন। ডাল আলাদা সিদ্ধ করে পানি শুকিয়ে নিন।
২। মাংস সিদ্ধ হয়ে গেলে পানি শুকিয়ে ঝরঝরা করে নিন, মাংসে পানি থাকা যাবেনা ।
৩। মাংস চুলা থেকে নামিয়ে ঠান্ডা হতে দিন, এবার ডাল এবং মাংস মিহি করে বেটে নিন।
৪। বাটা মাংসের মিশ্রনের মধ্যে কাঁচামরিচ, পেয়াজ, ধনিয়া পাতা, টমেটো সস, টালা জিরা গুরা, সামান্য টোস্টের গুঁড়া এবং ডিম দিয়ে ভালভাবে মিশিয়ে নিন।
৫। এরপর মিশ্রণ থেকে অল্প অল্প নিয়ে হাতের চাপে কাবাব আকারে গড়ে নিন।
৬। প্যানে তেল গরম হতে দিন। তেল গরম হলে কাবাবগুলো লালচে করে ভেজে নিন। ব্যাস তৈরি শামি কাবাব।
৭। গরুর মাংসের কালাভুনা :
উপকরন :
মাংস মেরিনেশনের জন্য
গরুর মাংস ১ কেজি (অল্প হাড় এবং চর্বিসহ)
পেঁয়াজ মোটা কুঁচি ১ কাপ
আদা বাটা ১ টেবিল চামচ
রসুন বাটা ২ চা চামচ
কাঁচা মরিচ বাটা ১ চা চামচ
মরিচ গুঁড়া ১ ১/২ চা চামচ
হলুদ ১/৪ চা চামচ
ধনিয়া গুঁড়া ২ চা চামচ
টালা জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ
লবন পরিমানমত
আস্ত গরম মসলা(তেজপাতা ২ টি, লবঙ্গ ৮ টি, দারচিনি ২ টুকরা, এলাচ ৫ টি, বড় এলাচ ২ টি)
আস্ত গোলমরিচ ১৪ টি
সাদা তেল ১/৩ কাপ
কালাভুনা স্পেশাল মসলা
রাধুনী (Celery) ১/২ চা চামচ
টালা জিরা গুঁড়া ১/২ চা চামচ
গরম মশলা -এলাচ ২ টি, লবঙ্গ ৩ টি, দারচিনি ছোট ১ টুকরা, তেজপাতা ছোট ১ টি
আস্ত গোলমরিচ ৬ টি
বড় এলাচ ১ টির অর্ধেক
জয়ফল গুঁড়া ১/২ চা চামচ
ফোঁড়নের জন্য
সরিষার তেল ১/৩ কাপ
পেঁয়াজ কুঁচি ২/৩ কাপ
রসুন কুঁচি ১ টেবিল চামচ
আস্ত শুকনা মরিচ ৫ টি
প্রনালি :
১। প্রথমে কালাভুনা স্পেশাল মশলার সমস্ত উপকরণ একসাথে মিশিয়ে পাটায় বা ব্লেন্ডারে গুঁড়া করে নিন।
২। আলাদা পাত্রে মাংসের সাথে তেল সহ মাংস মেরিনেশনের সমস্ত মশলা মিশিয়ে মাংস মেরিনেট করে রাখুন ৪-৫ ঘণ্টা। এই সময় কালাভুনা স্পেশাল মশলার গুঁড়োটা দিবেন না। এই মশলা রান্নার শেষের দিকে দিবেন।
৩। মাংস মেরিনেট করা হয়ে গেলে এরপর রান্না শুরু করে দিন। রান্নার প্রথম দিকে পাত্র ঢেকে চুলার আঁচ বাড়িয়ে রাখুন। মাংস থেকে পানি বের হওয়া শুরু হলেই চুলার আঁচ মাঝারি করে দিয়ে মাংস ভালমত কষিয়ে রান্না করুন।
৪। মাংস সিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত পাত্র ঢেকে দিয়ে রান্না করুন এবং মাঝে মাঝে নেড়ে দিন যাতে নিচে লেগে না যায়।। মাংসের পানি পুরোপুরি শুকিয়ে গেলে প্রয়োজনে অল্প অল্প গরম পানি যোগ করুন।
৫। মাংসের পানি কমে আসলে কালাভুনা স্পেশাল মশলা পুরোটা মাংসের মধ্যে ঢেলে দিয়ে সব ভালকরে নেড়ে দিন। এখন মাংস কষাতে কষাতে সুন্দর সিদ্ধ হয়েঝোল শুকিয়ে তেল উপরে উঠে এলে চুলা বন্ধ করে দিন। (মাংস সিদ্ধ করে একেবারে নরম করে ফেলবেননা, এমনভাবে সিদ্ধ করবেন যাতে মাংসের ভিতরটা সুন্দর সিদ্ধ হয় কিন্তু মাংস খুলে না আসে।)
৬। এবার ফোঁড়নের জন্য আলাদা একটি পাত্রে ১/৩ কাপ সরিষার তেল নিয়ে চুলায় গরম হতে দিন।তেল গরম হলে একে একে পেঁয়াজ কুঁচি, রসুন কুঁচি এবং শুকনা মরিচ দিন। এখন পেঁয়াজের কালার ব্রাউন হয়ে এলে মাংসের মধ্যে এই তেল এবং পেঁয়াজ সব একসাথে ঢেলে দিন।
৭। চুলার আঁচ মাঝারি থেকে একটু কমিয়ে মাংস হালকা হাতে মাঝে মাঝে নাড়তে থাকুন যতক্ষণনা মাংসের উপর তেল উঠে আসে। এভাবে নাড়তে নাড়তে আস্তে আস্তে মাংসের রংও পরিবর্তন হয়ে কালচে হতে থাকবে। মোট ৮-১০ মিনিটের মধ্যে কালাভুনা তৈরি হয়ে যাবে। মাংসের উপর তেল উঠে এলে চুলা বন্ধ করে কালাভুনা কিছুক্ষন ঢেকে রাখুন।
৮। এরপর পরিবেশন করুন পরোটা, পোলাও বা সাদা ভাতের সাথে।
#👨🌾🍕🌭🍟🥤....