06/09/2024
বর্তমানে কিছু জাহেলরা পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) এর বিরোধীতা করে এরুপ বলে থাকে যে, নবীজি ﷺ তিনির শুভ আগমনের দিন ঈদ হয় কীভাবে? মুসলমানদের ঈদ তো দুইটি। ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আদ্বহা। এই দুই ঈদ ছাড়া ইসলামে আর কোনো ঈদ নেই। নাউজুবিল্লাহ।
অথচ কুরআন এবং হাদিস ঘাটাঘাটি করে পাওয়া গেল যে মুসলমানের ঈদ হলো পাঁচটা।
১/ ঈদুল ফিতর।
২/ ঈদুল আযহা।
৩/ জুমার দিন।
৪/ আরাফার দিন।
৫/ রাসূল (ﷺ) এর শুভ আগমনের দিন।
অথচ সিহাহ সিত্তার অন্যতম কিতাব, ইবনে মাজাহ শরীফের ৭৭পৃষ্ঠায় বর্নিত রয়েছে >>
عن ابن عابس رضي الله تعالي عنه قال قال رسول الله صلي الله عليه و سلم ان هذا يوم عيد جعله الله للمسلمين
অর্থ- হযরত ইবনে আব্বাস রদ্বিআল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্নিত। নবীজি পাক ﷺ তিনি বলেছেন- নিশ্চই মহান আল্লাহপাক তিনি জুমুআর দিনকে মুসলমানদের জন্য ঈদের দিন হিসেবে নির্ধারন করেছেন।
(পবিত্র হাদীস শরীফ নং- ১০৯৮)
এছাড়া তিরমিযী শরীফ কিতাবের ২য় খন্ড ১০৪পৃষ্ঠার ৩০৪৪নং পবিত্র হাদীস শরীফে জুমুআর দিনকে এবং আরাফার দিনকে ঈদের দিন বলা হয়েছে।
এরপর নাসাঈ শরীফ কিতাবের ২য় খন্ড ৩৬পৃষ্ঠায় বর্নিত রয়েছে >>
عن عقبة ابن عامر رضي الله تعالي عنه ان رسول الله صلي الله عليه و سلم قال ان يوم عرفة و يوم النحر و ايام التشريق عيدنا اهل الاسلام
অর্থ- হযরত উকবা ইবনে আমির রদ্বিআল্লাহু তায়ালা আনহু উনার থেকে বর্নিত। নবীজিপাক ﷺ তিনি বলেছেন- আরাফার দিন, কুরবানীর দিন এবং আইয়ামে তাশরীক (অর্থাৎ জিলহজ্জ মাসের ১১,১২,১৩ তারিখ) আমাদের মুসলমানদের জন্য ঈদ বা খুশীর দিন।
(পবিত্র হাদীস শরীফ নং- ৩০০৪)
উপরোক্ত পবিত্র হাদীস শরীফ সমুহে জুমুআর দিন, আরাফার দিন এবং জিলহজ্জ মাসের ১১,১২ এবং ১৩ তারিখকে ঈদের দিন বলা হয়েছে। সুতরাং যারা বলে ইসলামে দুই ঈদ ছাড়া আর কোনো ঈদ নেই, তারা উপরোক্ত পবিত্র হাদীস শরীফ সমুহ অস্বীকারকারী। আর যারা পবিত্র হাদীস শরীফ অস্বীকারকারী, তারা মুসলমান নাকি অন্য কিছু নিজেদেরকে জিঙ্গেস করুক?
এখন উপরোক্ত পবিত্র হাদীস শরীফগুলো জানার পরে হয়তবা বিরোধীতাকারীরা বলবে যে, মানলাম ইসলামে দুই ঈদ ছাড়া আরো ঈদ আছে। কিন্তু নবীজি ﷺ শুভ আগমনের দিন ঈদ হয় কীভাবে?
এর দলিল কোথায়? নবীজি ﷺ তিনির আগমনের দিন ঈদ এর দলিল হচ্ছে >>
قال عيس ابن مريم اللهم ربنا انزل علينا ماءدة من السماء تكون لنا عيدا لاولنا و اخيرنا
অর্থ- হযরত ঈসা ইবনে মারইয়াম বললেন- হে আল্লাহ! আমাদের পালনকর্তা, আপনি আসমান থেকে আমাদের জন্য খাদ্য ভর্তি খাঞ্চা নাযীল করুন, তাহলে এই দিনটি আমাদের পুর্ববর্তী এবং পরবর্তী সকলের জন্য হবে ঈদ বা খুশীর দিন।
(সূরা মায়েদা, আয়াত ১১৪)
قُلۡ بِفَضۡلِ اللّٰہِ وَ بِرَحۡمَتِہٖ فَبِذٰلِکَ فَلۡیَفۡرَحُوۡا ؕ ہُوَ خَیۡرٌ مِّمَّا
یَجۡمَعُوۡنَ
বল, ‘আল্লাহর অনুগ্রহ ও রহমতে। সুতরাং এ নিয়েই
যেন তারা খুশি হয়'। এটি যা তারা জমা করে তা
থেকে উত্তম।
(সূরা ইউনুস, আয়াত ৫৮)
১২ রবিউল আউয়াল শরিফ,আমরা নবিজি ﷺ তিনির আগমনের দিন কে কেন সকল ঈদের সেরা ঈদ বলি, এই ব্যাপারে ইবনে মাজার শরীফ কিতাবের ৭৬ পৃষ্ঠার মধ্যে বিস্তারিত ভাবে বর্ণনা দেওয়া আছে, এছাড়া হাজী এমদাদুল্লাহ মুহাজেরে মক্কী, কুল্লিয়াতে এমদাদিয়া, ২০৭পৃ. ফয়সালায়ে হাফতে মাসায়েল, ৭-৮ পৃ.} হাজী এমদাদুল্লাহ মক্কীর বাংলা কিতাব সাত মাসালায়ের সমাধান ১৭-১৯ নাম্বার, আল্লামশিহাব উদ্দিন
সৈয়দ মাহদুদ আলুসী-রুহুল মা'আনী,৬/১৩৩পৃ, ইমামহাকেম নিশাপুরী: আল-মুস্তাদরাক: ১/২১১পৃ. কিতাবুল ইলম, হাদিস নং-৪২২, দারুল কুতুব ইলমিয়্যাহ, বয়রুত, লেবানন, প্রথম প্রকাশ. ১৪১১হি.
হযরত ওসমান রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু বলেন, যে ব্যক্তি ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) পাঠ করার জন্য এক দিরহাম খরচ করলো, সে যেন বদর ও হুনাইন জিহাদে শরীক হলো।
(ইমাম ইবনে হাজার হায়সামী: আন নেরমাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং-০৮)
হযরত আলী রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু বলেন, যে ব্যক্তি ঈদে মিলাদুন্নবী (ﷺ) এ কে সম্মান করবে, সে ঈমানের সাথে মৃত্যু বরণ করবে এবং বিনা হিসাবে জান্নাতে প্রবেশ করবে।
(ইমাম ইবনে হাজার বায়সামী: আন নেয়মাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং-০৮)
মিলাদুন্নবী (ﷺ) এর বিরোধীতা কে করে জানেন???
"শয়তান চার বার উচ্চস্বরে কেদেছিল। যখন আল্লাহ্ তায়ালা তাকে অভিশপ্ত আখ্যা দেন; যখন তাকে বেহেস্ত থেকে বের করে দেয়া হয়; যখন হুজুর পাক (ﷺ) উনার বেলাদত/মিলাদ শরীফ হয়; এবং যখন সূরা ফাতেহা নাযিল হয়।"
(আল-বেদায়া ওয়ান নেহায়া-২য় খণ্ড ১৬৬ পৃষ্ঠা) বোঝা গেলো একমাত্র শয়তানই মিলাদুন্নাবী (ﷺ) বিরোধী।
নবী করীম (ﷺ) নিজের মিলাদ উপলক্ষে ছাগল কোরবানী দেনঃ
"নবী (ﷺ) সয়ং নিজের জন্মের খুশি উপলক্ষে ছাগল যবেহ করেছিলেন।"
(ইমাম সূয়তী রহমতুল্লাহ আলাইহি আল হাবিবুল ফতোয়া, ১ম খন্ড, ১৯৬ পৃষ্টা
ইমাম ইউসুপ নাবহানী রহমতুল্লাহ আলাইহি হুজ্জতুল্লাহে আলাল আলামিন, পৃষ্ঠা: ২৬৭ পৃষ্টা
হুসনুল মাকাসিদ ফি আমালিল মাওলিদ, পৃষ্টা- ৬৫)
নবী কারীম (ﷺ) কে জিজ্ঞাস করা হলো যে, আপনার দূরে অবস্থানকারীর দরূদের কি অবস্থা? তিনি বলেন, আমি আমাদের প্রতি মুহাব্বাতকারীর দরূদ নিজে শুনি এবং তাদেরকে জানি।”
(দালাইলুল খায়রাত, মাতালিউল মুসাররাত,পৃষ্ঠাঃ ৮১)
প্রিয় মুস্তফা (ﷺ) ইরশাদ করেন, যার কাছে আমার আলোচনা হলো আর সে আমার উপর দরূদ শরীফ গড়ল না, সে জান্নাতের রাস্তা ছেড়ে দিলো।
(মুজম কবীর, ৩/১১৮, হাদীস : ২৮৮৭)
হযরত আবু বকর সিদ্দীক রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি নবী করীম ﷺ এর মীলাদ-ই-পাকের জন্য একটি মাত্র দিরহাম খরচ করবে, সে (যদি সে ঈমানদার হয়) জান্নাতে আমার সঙ্গী হবে।”
(ইবনে হাজার মক্কী, আন-নি‘আমাতুল কুবরা আলাল আলাম, পৃষ্ঠা নং- ৭, মীর মুহাম্মদ কারখানা, করাচী, পাকিস্তান এবং মাকতুবাতুল হক্কীয়্যাহ, তুরস্ক)
হযরত ওমর ফারুক রাদিআল্লাহু তাআ'লা আনহু এরশাদ করেছেন, যে ব্যক্তি নবী করীম (ﷺ) এর মীলাদ-ই-পাককে সম্মান ও মযাদা দান করেছে সে নিশ্চয় ইসলামকে জীবিত করেছে।”
(আন নেয়ামাতুল কুবরা আলাল আলাম পৃষ্ঠা নং- ৭)
মহান আল্লাহ সুবহানু ওয়া তায়লা তার প্রিয় নবী ও রাসুল হজরত মুহাম্মদ মুস্তাফা ﷺ তিনির উসিলায় সকলকে হেদায়েত দান করুক।আমিন🤲