Mufti Tawhidul Islam Rifat

Mufti Tawhidul Islam Rifat আমার রব আমার সব❤️আমার রাসূল আমার আদর্শ

আলহামদুলিল্লাহচরিত্রচর্চাচরিত্র বদলালে বদলে যায় জীবনএকটি সুন্দর চরিত্রের পথে—আত্মশুদ্ধি | আদব | আখলাক।  সংযম | সদাচারভা...
01/10/2026

আলহামদুলিল্লাহ
চরিত্রচর্চা
চরিত্র বদলালে বদলে যায় জীবন
একটি সুন্দর চরিত্রের পথে—
আত্মশুদ্ধি | আদব | আখলাক। সংযম | সদাচার
ভাষান্তর: তাওহীদ রিফাত
শীঘ্রই প্রকাশিতব্য

মুতাকদ্দিমীন ও মুতাআখখিরীনদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ বোঝাপড়াপ্রতিটি শাস্ত্রের আলেমদের মাঝে মুতাকদ্দিমীন (متقدمین) ও মুতাআখখ...
22/09/2026

মুতাকদ্দিমীন ও মুতাআখখিরীনদের একটি ভারসাম্যপূর্ণ বোঝাপড়া

প্রতিটি শাস্ত্রের আলেমদের মাঝে মুতাকদ্দিমীন (متقدمین) ও মুতাআখখিরীন (متأخرین) ভিত্তিক শ্রেণিবিভাগ রয়েছে। তবে এই বিভাজন সবসময় একই দৃষ্টিকোণ থেকে করা হয় না। ফলে মুতাকদ্দিমীন ও মুতাআখখিরীনদের সীমানা নির্ধারণেও আলেমদের মাঝে মতভিন্নতা দেখা যায়।

উলূমুল হাদীসের বিশেষজ্ঞ আলেমদের মাঝেও মুতাকদ্দিম ও মুতাআখখিরের এই বিভাজন রয়েছে এবং এ ক্ষেত্রেও তাদের সীমানা নির্ধারণে মতভিন্নতা রয়েছে।
সিরিয়ার শায়খ ইসাম ঈদ তাঁর منهج قبول الأخبار عند المحدثين গ্রন্থে দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছেন। একটি হলো ইলমে মুস্তালাহিল হাদীসের উৎপত্তি ও বিকাশ, আর অন্যটি হলো মুতাকদ্দিম ও মুতাআখখিরের মধ্যকার সীমানা নির্ধারণ।বিশেষ করে দ্বিতীয় বিষয়টি নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে এত বিস্তারিত আলোচনা খুব একটা চোখে পড়ে না। তাই এ বিষয়ে তিনি তাঁর গ্রন্থে যতটুকু আলোচনা করেছেন, তা নিঃসন্দেহে শুকরিয়া ও কৃতজ্ঞতার দাবি রাখে।

মুতাকদ্দিম ও মুতাআখখির কেন জানা জরুরি?
অনেক কারণেই মুতাকদ্দিমীন ও মুতাআখখিরীনদের মধ্যকার সীমানা জানা জরুরি। এর অন্যতম কারণ হলো প্রত্যেক আলেমের ইলমী মতামতকে বাড়াবাড়ি ও ছাড়াছাড়ি থেকে মুক্ত থেকে, যতটুকু গুরুত্বের দাবি রাখে ততটুকু গুরুত্ব দেওয়া। বর্তমানে দেখা যায়, কেউ কেউ মুতাকদ্দিমীন আলেমদের গুরুত্ব দিতে গিয়ে মুতাআখখিরীন আলেমদের প্রায় বর্জন করে ফেলেন। আবার কেউ কেউ মুতাআখখিরীন আলেমদের গুরুত্ব দিতে গিয়ে মুতাকদ্দিমীন আলেমদের গুরুত্বই খাটো করে দেখেন। অথচ ভারসাম্যপূর্ণ কর্মপন্থা হলো উভয়কেই যথাযথ গুরুত্ব দেওয়া।
মুতাকদ্দিমীন আলেমদের কাছে পৌঁছাকে অভীষ্ট লক্ষ্য বানিয়ে, মুতাআখখিরীন আলেমদেরকে সেই লক্ষ্যে পৌঁছার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করা যেতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়
বিশেষভাবে মনে রাখা দরকার অনেকের আলোচনা শুনলে মনে হয়, কোনো একটি ইলমী বিষয়ে মুতাকদ্দিম আলেমগণ একটি সিদ্ধান্তে একমত ছিলেন, আর মুতাআখখির আলেমগণ এসে সম্পূর্ণ ভিন্ন একটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। অর্থাৎ, যেন সকল মুতাআখখির আলেম সকল মুতাকদ্দিম আলেমের বিপরীত মত গ্রহণ করেছেন।বাস্তবে বিষয়টি সবসময় এমন নয়। আমাদের অনুসন্ধান, অধ্যয়ন কিংবা বোঝার সীমাবদ্ধতার কারণেই অনেক সময় এমনটি মনে হয়। হয়তো মুতাকদ্দিম আলেমদের মাঝেই কোনো বিষয়ে দুটি মত ছিল। পরবর্তীতে মুতাআখখির আলেমগণ সেই দুটি মতের কোনো একটি গ্রহণ করেছেন। অথবা মুতাআখখির আলেমদের মাঝেও পূর্বের সেই দুই মতই বহাল ছিল। আবার এমনও হতে পারে মুতাকদ্দিম আলেমগণ কোনো একটি সিদ্ধান্তে একমত ছিলেন। পরবর্তীকালে মুতাআখখির আলেমদের কেউ কেউ ভিন্ন মত গ্রহণ করলেও অধিকাংশ মুতাআখখির আলেম মুতাকদ্দিম আলেমদের সিদ্ধান্তের ওপরই অটল ছিলেন।

কখনো কখনো এমনও দেখা যায় যে, মুতাকদ্দিম আলেমগণ যে সিদ্ধান্তে একমত হয়েছেন, মুতাআখখির আলেমগণও মূলত সেই সিদ্ধান্তই গ্রহণ করেছেন। কিন্তু মুতাআখখির আলেমদের উপস্থাপন-পদ্ধতি, পরিভাষা কিংবা বক্তব্যের ধরন ভিন্ন হওয়ার কারণে অনেকে মনে করেন, তাঁরা বুঝি মুতাকদ্দিম আলেমদের বিরোধিতা করেছেন।
এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতি মনে রাখা দরকার «اختلاف العبارة لا يدل دائما على اختلاف الرأي»
অর্থাৎ, বক্তব্যের ভাষা বা উপস্থাপনের পার্থক্য সবসময় মতের পার্থক্য নির্দেশ করে না।
তাই কোনো আলেমের বক্তব্যকে মুতাকদ্দিমদের বিরোধী হিসেবে চিহ্নিত করার আগে তাঁর বক্তব্যের প্রকৃত উদ্দেশ্য, পরিভাষা, পূর্ববর্তী আলেমদের বক্তব্য এবং সামগ্রিক ইলমী প্রেক্ষাপট ভালোভাবে যাচাই করা জরুরি। ইলমী মতভেদ বোঝার ক্ষেত্রে আবেগ নয় গভীর অনুসন্ধান, ইনসাফ ও ভারসাম্যই হওয়া উচিত আমাদের পথ।

21/09/2026

صلى الله عليه وسلم

তাসবিহ ব্যবহার করা কি বিদ'আত... পর্ব নং - ৩উসূলী পর্যালোচনা: তাসবীহ ব্যবহারের শরঈ অবস্থান....তাসবীহ ব্যবহারের শরঈ অবস্থা...
07/09/2026

তাসবিহ ব্যবহার করা কি বিদ'আত... পর্ব নং - ৩

উসূলী পর্যালোচনা: তাসবীহ ব্যবহারের শরঈ অবস্থান....
তাসবীহ ব্যবহারের শরঈ অবস্থান নির্ধারণের ক্ষেত্রে শুধু এর প্রচলন বা বাহ্যিক আকৃতির দিকে তাকানো যথেষ্ট নয়। বরং ইবাদত, উদ্দেশ্য, এবং وسائل তথা মাধ্যমের শরঈ হুকুম এবং এই বিষয়গুলোর পারস্পরিক সম্পর্কও বুঝতে হবে। উসূলুল-ফিকহ ও কাওয়ায়িদে ফিকহের কয়েকটি প্রসিদ্ধ কায়েদা এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা দেয়। এগুলোর আলোকে বিষয়টি পর্যালোচনা করলে তাসবীহকে একটি বৈধ মাধ্যম (وسيلة مباحة) হিসেবে ব্যবহারের বিষয়টি স্পষ্টভাবে বোঝা যায়।

★(এক) একটি প্রসিদ্ধ উসূলি কায়েদা হলো। ما لا يتم الواجب إلا به فهو واجب
অর্থাৎ, “যে বিষয় ছাড়া কোনো ওয়াজিব সম্পন্ন করা সম্ভব নয়, সেই বিষয়ও ওয়াজিব।” (আল-ইহকাম ১/১১৯)
ইবনু নুজাইম (রহ.) বলেন مباشرة الأسباب في الجملة تجب অর্থাৎ, সাধারণভাবে প্রয়োজনীয় কারণ ও وسائل তথা মাধ্যম অবলম্বন করা আবশ্যক হয়।
(আল আশবাহ ওয়ান নাযায়ের কায়দা নং ৩৪২)

তবে এ কায়েদার অর্থ এমন নয় যে, ১০০ বার জিকির করা প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর ওয়াজিব; অতএব ১০০ বার জিকির গণনার জন্য তসবিহ ব্যবহার করাও ওয়াজিব। এমন দাবি আমাদের বক্তব্যে ও নয়। বরং এখানে এ কায়েদাটি উল্লেখ করার উদ্দেশ্য হলো কোনো শরয়ি উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য কোনো মাধ্যম অপরিহার্য হয়ে গেলে সেই মাধ্যমও শরয়ি হুকুমের অন্তর্ভুক্ত হতে পারে। কিন্তু যেখানে একই উদ্দেশ্য অর্জনের জন্য একাধিক বৈধ মাধ্যম রয়েছে, সেখানে কোনো একটি নির্দিষ্ট মাধ্যম প্রত্যেক ব্যক্তির ওপর আবশ্যক হয়ে যায় না।

উদাহরণস্বরূপ, হজ আদায়ের জন্য একজন ব্যক্তিকে মক্কায় পৌঁছাতে হবে। সেখানে স্থলপথ, জলপথ ও আকাশপথ বিভিন্ন বৈধ মাধ্যম রয়েছে। হজ ফরজ হওয়ার কারণে প্রয়োজনীয় কোনো একটি বৈধ পথ অবলম্বন করা তার জন্য জরুরি হতে পারে; কিন্তু এর অর্থ এই নয় যে বিমানপথে যাত্রা করাই ফরজ, অথবা স্থলপথ গ্রহণ করাই ওয়াজিব। বরং যে বৈধ মাধ্যম তার জন্য উপযোগী ও সহজলভ্য, সে তা গ্রহণ করবে।
একইভাবে জিকিরের ক্ষেত্রেও আঙুল, কঙ্কর, খেজুরের আঁটি কিংবা তসবিহ , বিভিন্ন মাধ্যম হতে পারে। সুতরাং তসবিহকে অপরিহার্য বা ওয়াজিব বলা হচ্ছে না; বরং এটিকে জিকিরের সংখ্যা গণনার বৈধ মাধ্যমগুলোর একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইমাম গাযালী (রহ.) বলেন: الأمر بالشيء أمر بما لا يتم إلا به কোনো জিনিসের আদেশ করা মানেই, যা ছাড়া তা সম্পন্ন হয় না তারও আদেশ করা। ( আল- মুসতাসফা১/১৭৩)
ইমাম শাতেবী (রহ.) বলেন আল মুওয়াফকাতে ১/৩৮১ পৃষ্ঠায় এই কায়দার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে বলেন- এই কায়দা দুইটি দিক রয়েছে:
১. ما لا يتم الواجب إلا به وكان مقدورا للمكلف যেমন :নামাজের জন্য ওযু। ওযু ছাড়া নামাজ হয় না, তাই ওযু ওয়াজিব।
২. ما لا يتم الواجب إلا به ولم يكن مقدورا যেমন: নামাজের জন্য সময় হওয়া। এটা বান্দার ক্ষমতায় নয়, তাই এটা ওয়াজিব নয়। (আল - মুওয়াফকাত১/৩৮২)

শাতেবী (রহ.)-এর উসূল থেকে স্পষ্ট ভাবে বুঝা যাচ্ছে
১. তাসবীহ দ্বিতীয় প্রকারে (غير مقدور) পড়ে না, কারণ তাসবীহ বানানো ও ব্যবহার করা মানুষের ক্ষমতায় আছে। তাই এটাকে "غير مقدور" বলে উড়িয়ে দেওয়া যাবে না।
২. আবার এটা প্রথম প্রকারের (مقدور) মধ্যে *واجب معين*-ও নয়, কারণ সংখ্যা গণনার জন্য শুধু তাসবীহই একমাত্র মাধ্যম নয়। আঙুলও আছে।
৩. তাই এটা প্রথম প্রকারের মধ্যে واجب مخير অর্থাৎ জিকিরের সংখ্যা সংরক্ষণের প্রয়োজনে আঙুল, কঙ্কর, তাসবীহ এই মাধ্যমগুলোর যে কোনো একটি গ্রহণ করার অবকাশ আছে। আর তাসবীহ হল তন্মধ্যে একটি বৈধ অপশন।

ইবনু নুজাইম (রহ.)-আরো বলেন: مباشرة الأسباب في الجملة واجبة ولا ينافي التوكل، وتركها بالكلية حرام সাধারণভাবে উপায়-উপকরণ অবলম্বন করা ওয়াজিব, এটা তাওয়াক্কুলের পরিপন্থী নয়। আর সম্পূর্ণরূপে উপায় ত্যাগ করা হারাম।

ইবনে আবেদীন (রহ.) ব্যাখ্যায় বলেন: এর মানে এই নয় যে প্রতিটি কারণ গ্রহণ করা ফরজে আইন। বরং এর অর্থ হলো, শরীয়ত যে উদ্দেশ্য দিয়েছে, তার জন্য শরীয়ত-সম্মত কোনো না কোনো কারণ গ্রহণ করা জরুরি।
আল্লাহর জিকির বেশি বেশি করার হুকুম আছে। সেই হুকুম পালনে সাহায্যকারী হিসেবে গণনার মাধ্যম গ্রহণ করা এই কায়দার অন্তর্ভুক্ত। যেমন কেউ বেশি জিকির করতে চায়, সে যদি গণনা ছাড়া ভুলে যায়, তবে তার জন্য গণনার কোনো মাধ্যম গ্রহণ করার অবকাশ রয়েছে।

★(দুই) আর وسائل তথা মাধ্যম গ্রহণ করার হুকুম সম্পর্কে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উসূল হল:
ইমাম ইজ্জ ইবনে আব্দুস সালাম (রহ.) বলেন الوسائل لها أحكام المقاصد অর্থাৎ “মাধ্যমের হুকুম তার উদ্দেশ্যের হুকুমেরই অনুসারী।
মাধ্যমের গ্রহণের হুকুম সম্পর্কে শাওকানি (রহ.)-এর আলোচনায় আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উসূল পাওয়া যায়, তা হলো ما كان وسيلة إلى محرم فهو محرم، وما كان وسيلة إلى واجب فهو واجب অর্থাৎ, “যা হারামের মাধ্যম, তা হারাম; আর যা ওয়াজিবের মাধ্যম, তা ওয়াজিব।” (ইরশাদুল ফুহুল ২/২৫৮)

ইমাম শাওকানী (রহ.) এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা বাড়িতে গিয়ে বলেন, মাধ্যম ৩ প্রকার:
১. এমন মাধ্যম যা হারামের দিকে নিয়ে যায় সেটা হারাম। যেমন মদ বিক্রির জন্য আঙুর বিক্রি করা, যখন নিশ্চিত যে মদই বানাবে।
২. এমন মাধ্যম যা ওয়াজিবের দিকে নিয়ে যায় সেটা ওয়াজিব।
৩. এমন মাধ্যম যা মূলত বৈধ, কিন্তু নিয়ত খারাপ হলে হারাম হয়ে যায়।

এ থেকে বোঝা যায়, কোনো وسائل এর হুকুম তার উদ্দেশ্য, ব্যবহার ও ফলাফলের সঙ্গে সম্পর্কিত হতে পারে। তসবিহ নিজে কোনো হারাম কাজের মাধ্যম নয়। বরং সাধারণ ব্যবহারে এটি আল্লাহর জিকিরের সংখ্যা গণনার একটি মাধ্যম। অতএব, শুধু এর আকৃতি কিংবা পরবর্তী যুগে ব্যাপকভাবে প্রচলিত হওয়ার কারণে এর মূল ব্যবহারকে হারাম বা বিদআত বলা সঙ্গত নয়। তবে কোনো বৈধ মাধ্যম যদি পরবর্তীতে হারাম উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়, তাহলে সেই ব্যবহার নিন্দনীয় কিংবা হারাম হতে পারে। যেমন কেউ যদি তসবিহ ব্যবহার করে রিয়া, আত্মপ্রদর্শন কিংবা মানুষের কাছে নিজের নেককারির পরিচয় তুলে ধরতে চায়, তাহলে সমস্যাটি তসবিহের অস্তিত্বে নয়; বরং ব্যবহারের উদ্দেশ্য ও পদ্ধতিতে। যেমন মাইক বৈধ, গান-বাজনার জন্য ব্যবহার করলে হারাম।

★(তিন) আরেকটি প্রসিদ্ধ ফিকহি কায়েদা হলো: المشقة تجلب التيسير
অর্থাৎ, “কষ্ট সহজীকরণের কারণ হয়।

ইমাম শাতেবী (রহ.) বলেন "إن الشارع لم يقصد إلى التكليف بالمشاق"
অর্থাৎ শরীয়ত প্রণেতা কষ্ট দেওয়ার জন্য কোনো বিধান দেননি। (আল- মুওয়াকাকাত২/১২১)

আঙুলে জিকির গণনা করা সুন্নতসম্মত এ বিষয়ে সন্দেহ নেই। রাসূলুল্লাহ ﷺ আঙুলের মাধ্যমে জিকির গণনার প্রতি উৎসাহ দিয়েছেন। কিন্তু বাস্তব জীবনে মানুষের সক্ষমতা এক রকম নয়। কেউ অল্প সংখ্যক জিকির করেন, আবার কেউ দীর্ঘ সময় ধরে হাজার হাজার বার জিকির করেন। যেমন কেউ নিয়মিত ৫,০০০ বা ১০,০০০ বার জিকির করতে চাইলে শুধু আঙুলের মাধ্যমে দীর্ঘ সময় ধরে গণনা করা তার জন্য কষ্টকর হতে পারে এবং সংখ্যায় ভুল হওয়ার আশঙ্কাও থাকতে পারে।
এ অবস্থায় তাসবীহের দানা জিকির আজকারের সংখ্যা সংরক্ষণ ও গণনাকে সহজ করতে পারে। এখানে জিকিরের প্রকৃতি পরিবর্তিত হচ্ছে না, নতুন কোনো ইবাদতও সৃষ্টি হচ্ছে না; বরং একটি বিদ্যমান বৈধ আমল সম্পাদনের ক্ষেত্রে একটি বৈধ গণনামাধ্যম গ্রহণ করা হচ্ছে। আর শরীয়তের নীতি হলো, যেখানে সুন্নত পালনে কষ্ট হয়, সেখানে বৈধ وسائل তথা মাধ্যম গ্রহণ করে কাজটি সহজ করা জায়েজ। তাই তসবিহ এখানে بدعة নয়, বরং তাসবীহকে এখানে বলা হবে وسيلة مباحة للتيسير অর্থাৎ সহজতা সৃষ্টির একটি বৈধ মাধ্যম।

তাই তসবিহের হুকুম নির্ধারণের ক্ষেত্রে মূল প্রশ্ন হওয়া উচিত এটি কি নতুন কোনো ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করা হচ্ছে, নাকি একটি বৈধ ইবাদত গণনা ও সম্পাদনের মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে?” ওলামায়ে কিরাম তসবিহকে নিছক একটি মাধ্যম হিসেবে বিবেচনা করেন। আর কোনো মাধ্যমের বৈধতা বা অবৈধতা নির্ধারণে তার উদ্দেশ্য, ব্যবহার এবং শরিয়তের অন্যান্য দলিল বিবেচনায় নিতে হবে।

কওমী অঙ্গনে আজ যে বিভেদের রেখা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে, একে অপরের বিরুদ্ধে জবান দরাযি করছে এটা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক।কিন্তু এই ...
03/09/2026

কওমী অঙ্গনে আজ যে বিভেদের রেখা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছে, একে অপরের বিরুদ্ধে জবান দরাযি করছে এটা নিঃসন্দেহে দুঃখজনক।কিন্তু এই পরিস্থিতির দায় নির্ধারণ করতে হলে আবেগ দিয়ে নয় বরং ঠান্ডা মাথায় খতিয়ে দেখতে হবে। ব্যক্তিকে দায়মুক্ত করার আগে যুক্তির আয়নায় খতিয়ে দেখা দরকার

"কওমী অঙ্গন থেকে যারা জামায়াতে যোগ দিচ্ছে, তার দায় আল্লামা মামুনুল হক সাহেবের নয়, এই বক্তব্যটি শুনতে সরল মনে হলেও এর ভেতরে কয়েকটি যুক্তিগত ফাঁক রয়েছে। সরাসরি দায় ও প্রভাবজনিত দায় এক নয় কেউ জামায়াতে যোগ দিলে তার পূর্ণ দায় মামুনুল হক সাহেবের এমন দাবি যেমন অযৌক্তিক, তেমনি তাঁর কোনো দায়ই নেই এটাও সমান অযৌক্তিক।

ইসলামী শরীয়তে দুই ধরনের দায় আছে:
(ক) مباشرة তথা সরাসরি দায়
খ) تسبب তথা এমন পরিবেশ বা কারণ তৈরি করা যা অন্যকে প্রভাবিত করে

যদি কোনো ব্যক্তির রাজনৈতিক বক্তব্য, সম্পর্ক, সফর, প্রচারণা এমন একটি ধারণা তৈরি করে যে কওমী ও জামায়াতের আদর্শিক দূরত্ব কমে গেছে তাহলে কওমীর সাধারণ কর্মীরা প্রভাবিত হতেই পারে। এখানে তাঁকে এককভাবে দায়ী করা হচ্ছে না, বরং তাঁর ভূমিকার পর্যালোচনা করা হচ্ছে ,এটি জবাবদিহিতা, বিদ্বেষ নয়। আল্লামা মামুনুল হক সাহেবের কওমি মাদ্রাসায় মওদুদীবাদের অনুপ্রবেশের দায় মুক্তির জন্য অনেক ভাই কিছু যুক্তি উত্থাপন করেন।

★(এক) যদি বলা হয় অতীতেও অনেকে কওমী থেকে জামায়াতে গেছে, তখন তো মামুন সাহেব ছিলেন না। তখন কার দায় ছিল?★

অতীতেও তো কওমি অঙ্গন থেকে অনেকে জামায়াতে যোগ দিয়েছে। তখন তো মামুনুল হক সাহেব ছিলেন না। তাহলে তখন কার দায় ছিল?”
প্রশ্নটি আপাতদৃষ্টিতে জোরালো মনে হলেও বাস্তবে এটি একটি False Analogy বা ভ্রান্ত সাদৃশ্যের ওপর দাঁড়িয়ে আছে।কারণ অতীতে কোনো ব্যক্তি যে প্রেক্ষাপটে জামায়াতে যোগ দিয়েছেন, বর্তমানের প্রত্যেক ব্যক্তির যোগদানের প্রেক্ষাপট যে হুবহু একই হবে এমনটি ধরে নেওয়ার কোনো কারণ নেই।প্রতিটি ঘটনাকে তার নিজস্ব সময়, প্রেক্ষাপট ও কার্যকারণ দিয়ে বিচার করতে হয়।
অতীতে কোনো ছাত্র কোনো কারণে মাদরাসা ছেড়ে জামায়াতে যোগ দিয়েছে এটি প্রমাণ করে না যে আজকের ভিন্ন রাজনৈতিক বাস্তবতা, ভিন্ন রাজনৈতিক সম্পর্ক কিংবা বর্তমানের ১১ দলীয় জোটের কোনো প্রভাবই নেই।
বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত
বর্তমানে মামুনুল হক সাহেবের রাজনৈতিক অবস্থান, বক্তব্য, সম্পর্ক ও কর্মকাণ্ড কি কওমি অঙ্গনের কিছু মানুষকে জামায়াতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো ভূমিকা রাখছে?
যদি ভূমিকা রাখে, তাহলে সেই ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা অন্যায় নয়।

★( দুই )আরেকটি সস্তা যুক্তি দেওয়া হয় যে আমরা দেওবন্দী চেতনা শেখাতে পারিনি, এ কারণেই কওমী অঙ্গন থেকে জামাতে যোগদান করছে।★
এটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট। ধরা যাক, কওমী অঙ্গনে চেতনা শিক্ষাদানে দুর্বলতা আছে। এটি আমাদের আত্মসমালোচনা। কিন্তু ঘরের দরজা দুর্বল হওয়া কি চোরের অনুপ্রবেশকে বৈধ করে দেয়? একটি অঙ্গনের দুর্বলতা অন্য একটি আদর্শিক সংগঠনের প্রভাব বিস্তারের চেষ্টাকে দায়মুক্ত করে না।

তাই আমাদের দুটি কাজ একসাথে করতে হবে:
(১) নিজেদের দুর্বলতার আত্মসমালোচনা
(২) কে, কীভাবে, কোন প্রক্রিয়ায় সেই দুর্বলতার সুযোগ নিচ্ছে তারও পর্যালোচনা

★( তিন) রাজনৈতিক কারণে বিভিন্ন সময় অতীতের ন্যায় বর্তমান ও ভবিষ্যতেও জোট হতে পারে★

এটা নিছক একটি হালকা যুক্তি,এই যুক্তি দিয়ে বর্তমান প্রেক্ষাপটকে জায়েজ করা যায় না । কোন দল ভবিষ্যতে কার সাথে জোট করবে, এটি ভবিষ্যতের রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত। কিন্তু ভবিষ্যতের সম্ভাব্য জোট দিয়ে বর্তমানের আদর্শিক প্রশ্নকে অপ্রাসঙ্গিক বানানো যায় না।
বরং এখানে দুটি বিষয়কে আলাদা করতে হবে
১. রাজনৈতিক জোট
২ আদর্শিক সমর্থন
কোন নির্দিষ্ট ইস্যু তে রাজনৈতিক সমঝোতা হতে পারে কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে দুই দলের আদর্শ আকিদা মানহাজ্ব রাজনৈতিক দর্শনের সব পার্থক্য বিলীন হয়ে যাবে, এবং একটা দল ওপর দলীয় অঙ্গনে প্রভাব বিস্তার করবে। যদি কখনো এমন কোনো পরিস্থিতি আসে তাহলে সেখানে জোটবদ্ধ ভাবে না থাকাই অধিক যুক্তিযুক্ত । তাই ভবিষ্যতের জোটের সম্ভাবনা দিয়ে বর্তমান সম্পর্কের সমালোচনা বন্ধ করা মোটেও যুক্তিসঙ্গত নয়।

আসলে আমাদের মূল সমস্যা হলো একেবারে দায় এড়িয়ে চলা অথবা কোন ব্যক্তির উপর পুরোপুরি দায় দিয়ে দেওয়া।
বাস্তব জীবনে কোন সামাজিক বা রাজনৈতিক পরিবর্তনের পেছনে সাধারণত একাধিক কারণ থাকে
১. তার ব্যক্তিগত চিন্তা থাকতে পারে
২. আর রাজনৈতিক আকাঙ্ক্ষা থাকতে পারে
৩. কওমি অঙ্গনের সাংগঠনিক দুর্বলতা থাকতে পারে
৪. জামাতের সাংগঠনিক কার্যক্রম শক্তিশালী হতে পারে
৫. কোন ব্যক্তির বক্তব্য বা সম্পর্ক প্রভাব ফেলতে পারে।
আবার সবগুলো কারণ একসঙ্গে পাওয়া যাওয়া ও অসম্ভব নয়। সুতরাং কওমি ছাত্ররা জামাতে যোগ দেওয়ার পিছনে মামুনুল হক সাহেবের কোন দায়বদ্ধতা নাই বলাটাও অযৌক্তিক।

★(চার). 11 দলীয় জোটের সমালোচনা বন্ধের জন্য আরেকটি যুক্তি দাড় করানো হয় সেটি হলো "বিভেদ এড়ানোর জন্য সমালোচনা বন্ধ করা উচিত" দেওবন্দী চেতনায় বিভক্তি কাম্য নয়।★

দেওবন্দী চেতনা রক্ষার নামে বিভেদ কাম্য নয় কিন্তু তাই বলে সমালোচনা করা যাবে না এটা অযৌক্তিক ,কওমী অঙ্গনে বিভেদ সৃষ্টি করা অবশ্যই কাম্য নয়। জবান দ্বরাজ করা ,গালাগালি ,ব্যক্তিগত আক্রমণ এসব থেকে বিরত থাকা উচিত ,তাই বলে এই আশঙ্কাকে ঢাল বানিয়ে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও আদর্শিক প্রশ্নগুলো এড়িয়ে যাওয়া যাবে না। কারো সঙ্গে কোন রাজনৈতিক দলের সম্পর্ক যদি কওমী অঙ্গনে বিভ্রান্তি তৈরি করে তাহলে অবশ্যই সেটা নিয়ে সমালোচনা করা হবে। কেউ যদি এমন কোন ভূমিকা পালন করে যার ফলে কওমী অঙ্গনের ছাত্ররা নির্দিষ্ট একটি পথভ্রষ্ট ধর্মীয় ফ্যাসিবাদী রাজনৈতিক দলের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে পড়ে তাহলে সেই ব্যক্তির ভূমিকা নিয়েও আলোচনা করা হবে। এটা ব্যক্তি বিদ্বেষ নয় , এটা জবাবদিহিতা

সুতরাং যারা বলে যে যারা জামাতে গেছে তারা নিজের স্বার্থে গেছে, মামুনুল হক সাহেবদের দায় দেওয়া যাবে না এটা সম্পূর্ণ একটি ভন্ডামিও প্রতারণাপূর্ণ কুযুক্তি।
এমতাবস্থায় আমাদের মুখ্য কর্তব্য হলো কওমী অঙ্গন থেকে জামাতে কেন যাচ্ছে ?কার প্রভাবে যাচ্ছে? এবং এই প্রবণতা ঠেকাতে আমাদের কি করনীয় এগুলোই ভাবতে হবে, আগে ভাগে কোন ব্যক্তিকে দায়মুক্ত করার অপচেষ্টা করা মোটেই উচিত নয়

তাসবিহ ব্যবহার করা কি বিদ'আত? পর্ব ---২জিকির করার সময় জিকিরের সংখ্যা গণনার জন্য মাধ্যম হিসেবে আঙুল, কঙ্কর (পাথর) খেজুরের...
26/08/2026

তাসবিহ ব্যবহার করা কি বিদ'আত? পর্ব ---২

জিকির করার সময় জিকিরের সংখ্যা গণনার জন্য মাধ্যম হিসেবে আঙুল, কঙ্কর (পাথর) খেজুরের আঁটি কিংবা প্রচলিত তাসবিহ ব্যবহার করার বিষয়ে ইমামগনের তিনটি মত পাওয়া যায়।

★১ম মত: বিদআত★
হাফেজ ইবনু হাজার আসকালানী রহ. ফাতহুল বারীর ১১ নং খন্ডের ২২৩ নং পৃষ্ঠায় আল্লামা তাকিউদ্দিন সুবকি রহ.-এর মতামত উল্লেখ করে বলেন:
«وقد أنكر ذلك جمعٌ من المتأخرين من الشافعية، وقال الشيخ تقي الدي السبكي في فتاويه: التسبيح بالمسبحة بدعة، ولم يكن ذلك في عهد رسول الله صلى الله عليه وسلم، وإنما حدث بعده.»

অনুবাদ:পরবর্তী যুগের কিছু শাফেয়ী আলেম এটিকে অস্বীকার করেছেন। শাইখ তাকিউদ্দিন সুবকি রহ. তাঁর ফাতাওয়ায় বলেছেন: তাসবিহের মাধ্যমে তাসবিহ গণনা করা বিদআত। এটি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে ছিল না; বরং তাঁর পর এটি প্রচলিত হয়েছে।”

প্রিয় পাঠক!! তবে লক্ষণীয় বিষয় হলো,
প্রথমত: আল্লামা তাকিউদ্দিন সুবকি রহ. তাসবিহকে বিদআত বলার ক্ষেত্রে সালাফে সালেহীনের যুগের পর এ ব্যাপারে বাড়াবাড়ির বিষয়টিকেই কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন। অর্থাৎ, শরিয়তের কোনো আমলের ক্ষেত্রে অতিরঞ্জন ও বাড়াবাড়ি করা হলে তা নিন্দনীয়.. এ কথা আমরাও অস্বীকার করি না। দ্বিতীয়ত: আল্লামা তাকিউদ্দিন সুবকি রহ. এই ফাতাওয়ার শেষ অংশে বলেছেন: «والأولى تركه» অর্থাৎ, “এটি পরিত্যাগ করাই উত্তম।”
তাঁর এই বক্তব্য থেকে বোঝা যায় যে, এখানে “বিদআত” শব্দ দ্বারা বিদআতে হাকিকী উদ্দেশ্য নয়; বরং অনুত্তম উদ্দেশ্য ।তাছাড়া ইবনু হাজার আসকালানী রহ. তাকিউদ্দিন সুবকি রহ.-এর এই মতামত উল্লেখ করার পর বলেন: «والجمهور على الجواز» আর জমহুর আলেমদের মত হলোএটি জায়েয।”

★২য় মত: মাকরুহ★
শাফেয়ী মাযহাবের অন্যতম মুহাক্কিক ইমাম নববী রহ. বলেন:
«قَالَ أَصْحَابُنَا: وَيُكْرَهُ السَّبْحُ بِالنَّوَى وَالْحَصَى وَالسُّبْحَةِ، وَلَمْ يَكُنْ ذَلِكَ فِي عَهْدِ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ»

অনুবাদ: “আমাদের ইমামগণ বলেছেন: খেজুরের আঁটি, কঙ্কর ও তাসবিহের মাধ্যমে তাসবিহ গণনা করা মাকরুহ। আর এটি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে ছিল না।”( আল আজকার পৃ: ২৩)
তাছাড়া ইমাম নববী রহ. আল-মাজমু শরহুল মুহাযযাব খণ্ড নং ৪ পৃষ্ঠা: ৫৯৫ বলেন:
«يُسْتَحَبُّ عَقْدُ التَّسْبِيحِ بِالْأَنَامِلِ، وَكُرِهَ بِالْحَصَى وَالسُّبْحَةِ»
অনুবাদ:“আঙুলের মাধ্যমে তাসবিহ গণনা করা মুস্তাহাব। আর কঙ্কর ও তাসবিহের মাধ্যমে গণনা করা মাকরুহ।”
অর্থাৎ ইমাম নববী রহ.-এর বক্তব্যের আলোচনায় মূল বিষয় হলো আঙুলের মাধ্যমে গণনা করা উত্তম, আর অন্য মাধ্যম গ্ৰহন করা তাঁর কাছে মাকরুহ হিসেবে বিবেচিত। অর্থাৎ, তাঁর দৃষ্টিতে আঙুলের সুন্নাহ পদ্ধতিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।

★৩য় মত:জায়েয; এবং এটিই প্রাধান্য প্রাপ্ত মত★
এ মত অনুযায়ী, জিকিরের জন্য আঙুল ছাড়াও কঙ্কর,খেজুরের আঁটি ও তাসবিহের মতো (وسائل ) মাধ্যম ব্যবহার করা জায়েয। তবে আঙুলের মাধ্যমে গণনা করা অধিক উত্তম এই মতের পক্ষে বিভিন্ন মাযহাবের অনেক মুহাক্কিক আলেমের বক্তব্য রয়েছে।

১.শাইখুল ইসলাম ইবনু তাইমিয়্যাহ রহ. বলেন:
«وَعَدُّ التَّسْبِيحِ بِالْأَصَابِعِ سُنَّةٌ، كَمَا عَقَدَ النَّبِيُّ ﷺ بِالْأَصَابِعِ، وَأَمَّا عَدُّهُ بِالنَّوَى وَالْحَصَى وَنَحْوِ ذَلِكَ فَحَسَنٌ، وَكَانَ مِنْ الصَّحَابَةِ مَنْ يَفْعَلُ ذَلِكَ»

অনুবাদ: “আঙুলের মাধ্যমে তাসবিহ গণনা করা সুন্নত, যেমন নবী ﷺ আঙুলের মাধ্যমে গণনা করেছেন। আর খেজুরের আঁটি, কঙ্কর ও এ ধরনের জিনিসের মাধ্যমে গণনা করাও উত্তম। সাহাবাদের মধ্যে কেউ কেউ এমনটি করতেন।” (আল-ফাতাওয়া আল কুবরা ৫/২৪৯)
লক্ষণীয় বিষয় হলো:এখানে ইবনু তাইমিয়্যাহ রহ. একদিকে আঙুলে গণনাকে সুন্নত বলেছেন, অন্যদিকে খেজুরের আঁটি, কঙ্কর ও অনুরূপ মাধ্যমেও গণনাকে ভালো বলেছেন।

২.শাইখ আব্দুল্লাহ ইবনু আহমদ নাসাফী হানাফী রহ. বলেন العقد الثمين في إثبات التسبيح باليمين ২৩ নং পৃষ্ঠায় এই তৃতীয় মতকে বিশুদ্ধ মত হিসেবে উল্লেখ করে বলেন
«الثَّالِثُ: الْجَوَازُ، وَهُوَ الصَّحِيحُ، لِأَنَّهُ أَسْكَنُ لِلْقُلُوبِ، وَأَجْلَبُ لِلنَّشَاطِ»
অনুবাদ:তৃতীয় মত হলো জায়েয। আর এটিই বিশুদ্ধ মত। কারণ, এটি অন্তরকে অধিক প্রশান্ত করে এবং ইবাদতের প্রতি অধিক উদ্যম সৃষ্টি করে।”
এখানে নাসাফী রহ. স্পষ্ট ভাষায় বলেছেন: الْجَوَازُ، وَهُوَ الصَّحِيحُ
জায়েয আর এটিই বিশুদ্ধ মত।”

৩.আল্লামা আব্দুল হাই লাখনবী রহ. مجموعة رسائل اللخنوي খণ্ড:১, পৃষ্ঠা: ১৪৯–১৫১তাসবিহ ব্যবহারের ব্যাপারে তৃতীয় মতকে প্রাধান্য দিয়ে বলেন: «فَالْحَقُّ أَنَّهُ جَائِزٌ بِلَا كَرَاهَةٍ، بَلْ هُوَ مُسْتَحَبٌّ عِنْدَ الْحَاجَةِ» অর্থাৎ:“সঠিক কথা হলো এটি কোনো প্রকার মাকরুহ ছাড়াই জায়েয। বরং প্রয়োজনের সময় এটি মুস্তাহাব। আল্লামা আব্দুল হাইলাখনবী রহ. এর বক্তব্য অনুযায়ী শুধু জায়েযই নয়; বরং প্রয়োজনের ক্ষেত্রে তাসবিহ ব্যবহার করা মুস্তাহাবও হতে পারে।

৪.শাইখ মুহাম্মাদ ইবনু সালিহ আল-উসাইমীন রহ. لقاء الباب المفتوح খণ্ড:৩নং পৃষ্ঠা: ৩০ এ বলেন:
«التسبيح بالمسبحة لا بأس به، ولكن التسبيح بالأصابع أفضل»
অনুবাদ: “তাসবিহের মাধ্যমে তাসবিহ পড়তে কোনো সমস্যা নেই। তবে আঙুলের মাধ্যমে তাসবিহ পড়া অধিক উত্তম। এখানে তাঁর বক্তব্য অত্যন্ত স্পষ্ট তিনি বলেছেন«لا بأس به» যা জায়েয হওয়ারই প্রমান বহন করে , একই সঙ্গে তিনি আরো বলেছেন «ولكن التسبيح بالأصابع أفضل» তবে আঙুলের মাধ্যমে গণনা করা অধিক উত্তম।”

এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বুঝে রাখা দরকার সেটা হল কেউ বলেননি যে প্রচলিত দানার তাসবিহ ব্যবহার করাই সুন্নত।বরং তৃতীয় মতের ইমামগন মূলত জায়েয বলেছেন।অর্থাৎ, তাসবিহের দানা ব্যবহার করা সুন্নত এ কথা বলা হচ্ছে না; বরং তা বৈধ হওয়ার কথা বলা হচ্ছে।একই সঙ্গে আরো বলা হচ্ছে যে “আঙুলের মাধ্যমে জিকির গণনা করা অধিক উত্তম।”

জিকির গণনার ক্ষেত্রে আঙুল, কঙ্কর ও খেজুরের আঁটি ব্যবহার করা হাদিসসমূহ দ্বরা ও প্রমানিত
১. রাসুলুল্লাহ ﷺ আঙুলে তাসবিহ গণনা করতেন:
সুনানে আবু দাউদে এসেছে
«حَدَّثَنَا عُبَيْدُ اللَّهِ بْنُ عُمَرَ بْنِ مَيْسَرَةَ، وَمُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ، فِي آخَرِينَ، قَالُوا: حَدَّثَنَا عُثَامٌ، عَنِ الْأَعْمَشِ، عَنْ عَطَاءِ بْنِ السَّائِبِ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَمْرٍو، قَالَ: رَأَيْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ يَعْقِدُ التَّسْبِيحَ. قَالَ ابْنُ قُدَامَةَ: بِيَمِينِهِ.»
অর্থ:আবদুল্লাহ ইবনু আমর রা. বলেন, “আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে তাসবিহ গণনা করতে দেখেছি।” ইবনু কুদামাহর বর্ণনায় রয়েছে“তাঁর ডান হাত দিয়ে।”

সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫০২
জামে‘ তিরমিযী, হাদিস: ৩৪১১

এই হাদিসের হুকুম সম্পর্কে
১.ইমাম তিরমিযী রহ. বলেন «هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ»
২.ইমাম নববী রহ. বলেছেন «إِسْنَادُهُ حَسَنٌ»“এর সনদ হাসান।”
( আল-আযকার, ১/৪৫)
৩.হাফেজ ইবনু হাজার আসকালানী রহ. বলেছেন«رِجَالُهُ ثِقَاتٌ» “এর বর্ণনাকারীগণ নির্ভরযোগ্য।”
(নাতায়িজুল আফকার ১/২৩৮)
উল্লেখিত বর্ননা অনুযায়ী রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর আঙুলের মাধ্যমে জিকির গণনা করা হাদিস দ্বারা প্রমাণিত হল।

২. ইউসাইরা রা.-এর হাদিসে আঙুলের ডগায় জিকির গণনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে:
সুনানে আবু দাউদে এসেছে
«حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ دَاوُدَ، عَنْ هَانِئِ بْنِ عُثْمَانَ، عَنْ حُمَيْضَةَ بِنْتِ يَاسِرٍ، عَنْ يُسَيْرَةَ، أَخْبَرَتْهَا، أَنَّ النَّبِيَّ ﷺ أَمَرَهُنَّ أَنْ يُرَاعِينَ بِالتَّكْبِيرِ، وَالتَّقْدِيسِ، وَالتَّهْلِيلِ، وَأَنْ يَعْقِدْنَ بِالْأَنَامِلِ، فَإِنَّهُنَّ مَسْئُولَاتٌ، مُسْتَنْطَقَاتٌ.»

অর্থ:ইউসাইরা রা. বর্ণনা করেন, নবী ﷺ তাঁদের তাকবির, তাকদিস ও তাহলিল করার নির্দেশ দিয়েছেন এবং আঙুলের ডগার সাহায্যে তা গণনা করতে বলেছেন। কারণ, এসব আঙুল সম্পর্কে প্রশ্ন করা হবে এবং এগুলোকে কথা বলানো হবে।সুনানে তিরমিযীর বর্ণনায় এসেছে
«عَلَيْكُنَّ بِالتَّسْبِيحِ وَالتَّهْلِيلِ وَالتَّقْدِيسِ، وَاعْقِدْنَ بِالْأَنَامِلِ، فَإِنَّهُنَّ مَسْئُولَاتٌ مُسْتَنْطَقَاتٌ، وَلَا تَغْفُلْنَ فَتَنْسَيْنَ الرَّحْمَةَ.»
অর্থ: “তোমরা তাসবিহ, তাহলিল ও তাকদিসকে অবলম্বন করো এবং আঙুলের ডগার সাহায্যে গণনা করো। কারণ এগুলোর ব্যাপারে প্রশ্ন করা হবে এবং এগুলোকে কথা বলানো হবে। আর তোমরা গাফেল হয়ো না; তাহলে রহমত ভুলে যাবে।”

সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫০১
জামে‘ তিরমিযী, হাদিস: ৩৫৮৩
সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস: ৮৪২

এই হাদিস সম্পর্কে
১. ইমাম তিরমিযী রহ. বলেছেন «هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ» “এটি গরীব হাদিস।”
২. হাফেজ ইরাকী রহ. বলেছেন «إِسْنَادُهُ جَيِّدٌ» “এর সনদ জাইয়িদ।”
৩. শাইখ শু‘আইব আরনাউত রহ. বলেছেন «إِسْنَادُهُ حَسَنٌ»এর সনদ হাসান।” (تخريج المسند, হাদিস: ২৭০৩৫)
অতএব, আঙুলের ডগার মাধ্যমে জিকির গণনা করা শুধু সাহাবির আমল নয়; বরং তা রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর নির্দেশ দ্বারাও প্রমাণিত।

৩. কঙ্কর বা খেজুরের আঁটি দিয়ে তাসবিহ গণনা :
সুনানে আবু দাউদে সা‘দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রা.-এর হাদিস এসেছে।
«حَدَّثَنَا أَحْمَدُ بْنُ صَالِحٍ، حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ وَهْبٍ، أَخْبَرَنِي عَمْرٌو، أَنَّ سَعِيدَ بْنَ أَبِي هِلَالٍ حَدَّثَهُ، عَنْ خُزَيْمَةَ، عَنْ عَائِشَةَ بِنْتِ سَعْدِ بْنِ أَبِي وَقَّاصٍ، عَنْ أَبِيهَا، أَنَّهُ دَخَلَ مَعَ رَسُولِ اللَّهِ ﷺ عَلَى امْرَأَةٍ وَبَيْنَ يَدَيْهَا نَوًى أَوْ حَصًى تُسَبِّحُ بِهِ، فَقَالَ: أُخْبِرُكِ بِمَا هُوَ أَيْسَرُ عَلَيْكِ مِنْ هَذَا أَوْ أَفْضَلُ، فَقَالَ: سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي السَّمَاءِ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ فِي الْأَرْضِ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا خَلَقَ بَيْنَ ذَلِكَ، وَسُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ مَا هُوَ خَالِقٌ، وَاللَّهُ أَكْبَرُ مِثْلَ ذَلِكَ، وَالْحَمْدُ لِلَّهِ مِثْلَ ذَلِكَ، وَلَا إِلَهَ إِلَّا اللَّهُ مِثْلَ ذَلِكَ، وَلَا حَوْلَ وَلَا قُوَّةَ إِلَّا بِاللَّهِ مِثْلَ ذَلِكَ.»

অর্থ: সা‘দ ইবনু আবি ওয়াক্কাস রা. বলেন, তিনি রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সঙ্গে এক মহিলার কাছে প্রবেশ করেন। তার সামনে খেজুরের আঁটি অথবা কঙ্কর ছিল, যার মাধ্যমে সে তাসবিহ পড়ছিল। তখন রাসুলুল্লাহ ﷺ বললেন: “আমি কি তোমাকে এর চেয়ে সহজ অথবা উত্তম একটি পদ্ধতি বলে দেব?”এরপর তিনি তাকে এই জিকির শিক্ষা দেন “আকাশে আল্লাহ যত কিছু সৃষ্টি করেছেন, তার সংখ্যা পরিমাণ ‘সুবহানাল্লাহ’; পৃথিবীতে আল্লাহ যত কিছু সৃষ্টি করেছেন, তার সংখ্যা পরিমাণ ‘সুবহানাল্লাহ’; এ দুয়ের মাঝে তিনি যত কিছু সৃষ্টি করেছেন, তার সংখ্যা পরিমাণ ‘সুবহানাল্লাহ’; এবং তিনি যত কিছু সৃষ্টি করবেন, তার সংখ্যা পরিমাণ ‘সুবহানাল্লাহ’। আর অনুরূপ ‘আল্লাহু আকবার’, অনুরূপ ‘আলহামদুলিল্লাহ’, অনুরূপ ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ এবং অনুরূপ ‘লা হাওলা ওয়া লা কুওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ’।”

সুনানে আবু দাউদ, হাদিস: ১৫০০
জামে‘ তিরমিযী, হাদিস: ৩৫৬৮
সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস: ৮৩৭

এই হাদিসের সনদ সম্পর্কে
১. হাকিম নিশাপুরী রহ. বলেছেন «هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ» “এটি সহিহ সনদের হাদিস।”
২. ইমাম শামসুদ্দিন যাহাবী রহ. বলেছেন «صَحِيحٌ عَلَى شَرْطِ مُسْلِمٍ» “মুসলিমের শর্ত অনুযায়ী সহিহ।”
৩. শাইখ শু‘আইব আল আরনাউত রহ. বলেছেন «حَسَنٌ لِغَيْرِهِ»
অতএব, কঙ্কর বা খেজুরের আঁটি দ্বার তাসবিহ পাঠ করার বিষয়টি ও গ্রহণযোগ্য হাদিস দ্বারা সমর্থিত।কারণ রাসুলুল্লাহ ﷺ ওই নারীকে কঙ্কর বা খেজুরের আঁটি দিয়ে জিকির করার কারণে নিষেধ করেননি; বরং তাঁকে আরও উত্তম একটি জিকির শিক্ষা দিয়েছেন।

মোল্লা আলী আল-কারি (রহ.) তাঁর مرقاة المفاتيح شرح مشكاة المصابيح-এ লিখেছেন:
«قال ابن حجر: والروايات في التسبيح بالنوى والحصى كثيرة عن الصحابة، وبعض أمهات المؤمنين، بل رآها عليه السلام، وأقر عليها، قيل: وعقد التسبيح بالأنامل أفضل من المسبحة، وقيل: إن أمن الغلط فهو أولى، وإلا فهي أولى.»
অর্থ:“ইবনু হাজার বলেছেন: খেজুরের আঁটি ও কঙ্কর দ্বারা তাসবিহ গণনার ব্যাপারে সাহাবায়ে কেরাম এবং উম্মাহাতুল মুমিনীন থেকে বহু বর্ণনা রয়েছে। বরং নবী ﷺ তা দেখেছেন এবং তা অনুমোদন করেছেন। বলা হয়েছে, আঙুলের মাধ্যমে তাসবিহ গণনা তসবিহের দানা দ্বারা গণনার চেয়ে উত্তম। আর বলা হয়েছে, ভুল হওয়ার আশঙ্কা না থাকলে আঙুলের মাধ্যমে গণনাই উত্তম; অন্যথায় তসবিহ দ্বারা গণনা উত্তম।”
(মিরকাতুল মাফাতিহ৪/৫৪)
হাশিয়াতুত তহতাবী ‘আলা মারাকিল ফালাহতে ও ইবনু হাজার রহ উদ্ধৃতিতে এই বক্তব্যটি উদ্ধৃত হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে:
«قال ابن حجر: والروايات بالتسبيح بالنوى والحصى كثيرة عن الصحابة وبعض أمهات المؤمنين بل رآها صلى الله عليه وسلم وأقرها عليه..»
(হাশিয়াতুত তহতাবী ‘আলা মারাকিল ফালাহ১/৩৭২)

৪. সাফিয়্যা রা.-এর সামনে ৪,০০০ খেজুরের আঁটি ছিল
জামে‘ তিরমিযীতে এসেছে
«حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا عَبْدُ الصَّمَدِ بْنُ عَبْدِ الْوَارِثِ، قَالَ: حَدَّثَنَا هَاشِمٌ، وَهُوَ ابْنُ سَعِيدٍ الْكُوفِيُّ، قَالَ: حَدَّثَنِي كِنَانَةُ، مَوْلَى صَفِيَّةَ، قَالَ: سَمِعْتُ صَفِيَّةَ تَقُولُ: دَخَلَ عَلَيَّ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ وَبَيْنَ يَدَيَّ أَرْبَعَةُ آلَافِ نَوَاةٍ أُسَبِّحُ بِهَا، قَالَ: لَقَدْ سَبَّحْتُ بِهَذِهِ، أَلَا أُعَلِّمُكِ بِأَكْثَرَ مِمَّا سَبَّحْتِ؟ فَقُلْتُ: بَلَى، عَلِّمْنِي، فَقَالَ: قُولِي: سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ خَلْقِهِ.»

অর্থ: সাফিয়্যা রা. বলেন:“রাসুলুল্লাহ ﷺ আমার কাছে প্রবেশ করলেন। আমার সামনে চার হাজার খেজুরের আঁটি ছিল, যার মাধ্যমে আমি তাসবিহ পড়ছিলাম। তিনি বললেন, ‘তুমি এগুলোর মাধ্যমে তাসবিহ পড়েছ। আমি কি তোমাকে এর চেয়েও বেশি সওয়াবের একটি পদ্ধতি শিক্ষা দেব?’আমি বললাম, ‘হ্যাঁ, আমাকে শিক্ষা দিন।’তিনি বললেন, ‘বলবে: «سُبْحَانَ اللَّهِ عَدَدَ خَلْقِهِ»

জামে‘ তিরমিযী, হাদিস: ৩৫৫৪
মুসনাদ আবু ইয়া‘লা, হাদিস: ৭১১৮
আল-মু‘জামুল আওসাত, তাবারানী, ২৪/৭৪, হাদিস: ১৯৫
আল-মুস্তাদরাক, হাকিম, হাদিস: ২০৩৪

এই হাদিসের ব্যাপারে ইমামদের বক্তব্য পরস্পর ভিন্ন।
১. ইমাম তিরমিযী রহ. বলেছেন «هَذَا حَدِيثٌ غَرِيبٌ، لَا نَعْرِفُهُ مِنْ حَدِيثِ صَفِيَّةَ إِلَّا مِنْ هَذَا الْوَجْهِ مِنْ حَدِيثِ هَاشِمِ بْنِ سَعِيدٍ الْكُوفِيِّ، وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِمَعْرُوفٍ.»
অর্থ:এটি একটি গরীব হাদিস। হাশিম ইবনু সা‘ঈদ আল-কূফীর এই সূত্র ছাড়া সাফিয়্যা রা.-এর হাদিস হিসেবে আমরা এটিকে অন্য কোনো সূত্রে জানি না এবং এর সনদ পরিচিত নয়।”
২. ইমাম হাকেম নিশাপুরী রহ. বলেছেন «هَذَا حَدِيثٌ صَحِيحُ الْإِسْنَادِ» “এটি সহিহ সনদের হাদিস।”( আল-মুস্তাদরাক, হাদিস: ২০৩৪)
৩. হাফেজ ইবনু হাজার আসকালানী রহ. নাতায়িজুল আফকার ২/৭৬ পৃষ্ঠায় এটিকে «حَسَنٌ» বলেছেন

সাফিয়্যা রা.-এর এই হাদিসের ব্যাপারে মুহাদ্দিসদের মধ্যে মতভেদ রয়েছে। ইমাম তিরমিযী রহ. সনদকে «ليس إسناده بمعروف» বলেছেন; অপরদিকে ইমাম হাকিম রহ. «صحيح الإسناد» বলেছেন এবং হাফেজ ইবনু হাজার রহ. এটিকে «حسن» বলেছেন। ফাজায়েলের ক্ষেত্রে যেহেতু জয়ীফ হাদিসও প্রমাণযোগ্য হয় সেহেতু হাদিসটিকে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য বলা ঠিক হবে।

উপরোক্ত হাদিসগুলো থেকে কয়েকটি বিষয় স্পষ্ট:
প্রথমত আঙুলের মাধ্যমে তাসবিহ পড়া রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর আমল ও নির্দেশ দ্বারা প্রমাণিত।
দ্বিতীয়ত: তাসবীহ পাঠ করার ক্ষেত্রে কঙ্কর ও খেজুরের আঁটি ব্যবহারের বর্ণনাও হাদিসের কিতাবে রয়েছে।
তৃতীয়ত:এসব বর্ণনার মধ্যে কিছু হাদিসের সনদ নিয়ে মুহাদ্দিসদের মধ্যে মতভেদ থাকলেও একাধিক মুহাদ্দিস সেগুলোকে حسن، صحيح الإسناد، حسن لغيره ইত্যাদি পরিভাষায় গ্রহণযোগ্য বলেছেন।
সুতরাং শুধু এ যুক্তিতে যে, “রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর যুগে বর্তমান প্রচলিত তসবিহের দানা ছিল না” সুতরাং প্রচলিত পদ্ধতিতে তাসবীহ বর্ণনা করা বিদআত হবে, কারণ জিকিরের সংখ্যা গণনার মূল বিষয়টি সুন্নাহ দ্বারা প্রমাণিত এবং গণনার মাধ্যম হিসেবে আঙুলের পাশাপাশি কঙ্কর ও খেজুরের আঁটির ব্যবহার সম্পর্কেও বর্ণনা রয়েছে।

চলবে..................

তাসবিহ ব্যবহার করা কি বিদআত? পর্ব নং.১ভূমিকা:সুতা ও দানা দিয়ে তৈরি প্রচলিত তসবিহকে আরবিতে “সুবহা” (سُبْحَة) এবং “মিসবাহা...
23/08/2026

তাসবিহ ব্যবহার করা কি বিদআত? পর্ব নং.১

ভূমিকা:
সুতা ও দানা দিয়ে তৈরি প্রচলিত তসবিহকে আরবিতে “সুবহা” (سُبْحَة) এবং “মিসবাহা” (مِسْبَحَة) বলা হয়।
মুহাম্মদ ইবনু মুকরিম ইবনু মানযূর আল-আফরীকী আল-মিসরী
তার বিখ্যাত গ্রন্থ লিসানুল আরবে (العرب, مادة: (سبح লিখেছেন: وَالسُّبْحَةُ: الْخَرَزَاتُ الَّتِي يُسَبَّحُ بِهَا.
অর্থাৎ: সুবহা হলো সেই দানাগুলো, যার মাধ্যমে তাসবিহ পাঠ করা হয়।
তাছাড়াও আল মুজামুল ওয়াসিতে. السُّبْحَة-এর সংজ্ঞায় উল্লেখ করা হয়েছে السُّبْحَةُ: خَيْطٌ يُنْظَمُ فِيهِ عَدَدٌ مِنَ الْخَرَزِ يُسَبَّحُ بِهِ. অর্থাৎ: সুবহা হলো এমন একটি সুতা, যাতে নির্দিষ্ট সংখ্যক দানা গাঁথা থাকে এবং যার মাধ্যমে তাসবিহ পাঠ করা হয়।

আমাদের প্রচলিত ভাষায় যেহেতু অনেক সময় কোনো وسائل(উপকরণের) নাম দিয়ে সেই উপকরণের মাধ্যমে সম্পাদিত কাজকেও বোঝানো হয়, তাই দানা ও সুতা দিয়ে তৈরি এই উপকরণকেও “তসবিহ” বলা হয়। এর প্রামানিকতা কুরআন ও ব্যাকারণিকভাবে সাব্যস্ত
১. কুরআনের সুস্পষ্ট উদাহরণ
আল্লাহ তাআলা বলেন:
وَاسْأَلِ الْقَرْيَةَ الَّتِي كُنَّا فِيهَا
তুমি সেই জনপদের লোকদের জিজ্ঞেস করো, যেখানে আমরা ছিলাম।”(সূরা ইউসুফ: ৮২)
এখানে القرية (জনপদ)-কে জিজ্ঞেস করার কথা বলা হয়েছে। অথচ জনপদ, ঘরবাড়ি বা ভূমিকে জিজ্ঞেস করা উদ্দেশ্য নয়; বরং জনপদের অধিবাসীদের জিজ্ঞেস করা উদ্দেশ্য।

২. আরবি ভাষার দৃষ্টিতে:
আরবি ভাষায় কোনো কিছুর سبب (কারণ), وسائل (মাধ্যম) ইত্যাদির নাম ব্যবহার করে তার সঙ্গে সম্পর্কিত বিষয়কে বোঝানোর ব্যবহার রয়েছে। একে সাধারণত مجاز বা إطلاق اسم السبب على المسبب বলা হয় । যেমন: আরবরা বলে رَعَيْنَا الْغَيْثَ আমরা বৃষ্টি চরিয়েছে। এর দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, বৃষ্টির কারণে উৎপন্ন ঘাসে চরানো। এখানে سبب (কারণের) দ্বারা ثمره তথা ফলাফল বোঝানো হয়েছে।

কিছু মানুষ এই তসবিহ ব্যবহারকে বিদআত বলে থাকেন এবং যারা তসবিহ ব্যবহার করেন তাদেরও নিন্দা করেন। অন্যদিকে আহলে হক ওলামায়ে কেরাম তসবিহকে জিকিরের সংখ্যা গণনার একটি বৈধ মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছেন।
এই বিষয়টি সঠিকভাবে বোঝার জন্য প্রথমেই একটি মৌলিক পার্থক্য মনে রাখা জরুরি আর তা হল:জিকির একটি ইবাদত; আর তসবিহের দানা দিয়ে জিকিরের সংখ্যা গণনা করা হলো সেই ইবাদত সম্পাদনের একটি وسائل বা মাধ্যম। এই পার্থক্যটি স্পষ্ট হলে তসবিহ ব্যাবহারের বৈধতা সকলের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে।

★জিকিরের গুরুত্ব ও মর্যাদা★
আল্লাহর জিকির আল্লাহ তাআলার নৈকট্য ও সন্তুষ্টি অর্জন, মানুষের আত্মিক উন্নতি এবং আল্লাহর সঙ্গে বান্দার সম্পর্ক সুদৃঢ় করার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।
শাইখুল ইসলাম ইবনুল কাইয়্যিম আল-জাওযিয়্যাহ রহ. তাঁর বিখ্যাত গ্রন্থ মাদারিজুস সালিকীনে জিকিরের মর্যাদা, গুরুত্ব, প্রভাব ও বরকত সম্পর্কে বিস্তৃত আলোচনা করেছেন
তিনি জিকিরের উপকারিতা সম্পর্কে তাঁর الوابل الصيب ورافع الكلم الطيب গ্রন্থের প্রতি ইঙ্গিত করে বলেন :
وَقَدْ ذَكَرْنَا فِي الذِّكْرِ نَحْوَ مِائَةِ فَائِدَةٍ فِي كِتَابِنَا «الْوَابِلِ الصَّيِّبِ وَرَافِعِ الْكَلِمِ الطَّيِّبِ»، وَذَكَرْنَا هُنَالِكَ أَسْرَارَ الذِّكْر وَعِظَمَ نَفْعِهِ، وَطِيبَ ثَمَرَتِهِ.
আমি ‘আল-ওয়াবিলুস সাইয়্যিব ও রাফিউল কালিমিত ত্বইয়্যিব’ গ্রন্থে জিকিরের প্রায় একশত উপকারিতা উল্লেখ করেছি। সেখানে আমরা জিকিরের রহস্য, এর বিরাট উপকারিতা এবং এর উত্তম ফলাফলও উল্লেখ করেছি।” (মাদারিজুস সালিকিন২/৪৪৮)

পবিত্র কুরআন মাজিদে বিভিন্ন পদ্ধতি ও বর্ণনাভঙ্গিতে আল্লাহর জিকিরের প্রতি গুরুত্বারোপ, উৎসাহ ও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কোথাও ঈমানদারদের জিকিরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, কোথাও আল্লাহকে ভুলে যাওয়া থেকে সতর্ক করা হয়েছে, কোথাও সফলতা ও কল্যাণকে অধিক জিকিরের সঙ্গে সম্পৃক্ত করা হয়েছে এবং কোথাও জিকিরকারীদের জন্য আল্লাহর বিশেষ রহমত, ক্ষমা ও প্রতিদানের কথা ঘোষণা করা হয়েছে। রাসুলুল্লাহ ﷺ-ও তাঁর কথা ও কাজের মাধ্যমে আল্লাহর জিকিরের প্রতি ব্যাপক উৎসাহ দিয়েছেন।

১. আবদুল্লাহ ইবনু বুসর রা.-এর হাদিস
ইমাম ইবনু হিব্বান রহ. তাঁর সহিহ-ইবনে হিব্বানে বর্ণনা করেছেন:

«أَخْبَرَنَا ابْنُ قُتَيْبَةَ، قَالَ: حَدَّثَنَا يَزِيدُ بْنُ مَوْهَبٍ، قَالَ: حَدَّثَنَا ابْنُ وَهْبٍ، قَالَ: حَدَّثَنِي مُعَاوِيَةُ بْنُ صَالِحٍ، أَنَّ عَمْرَو بْنَ قَيْسٍ الْكِنْدِيَّ حَدَّثَهُ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ بُسْرٍ، قَالَ: جَاءَ أَعْرَابِيَّانِ إِلَى النَّبِيِّ ﷺ، فَقَالَ أَحَدُهُمَا: يَا رَسُولَ اللَّهِ، أَخْبِرْنِي بِأَمْرٍ أَتَشَبَّثُ بِهِ، قَالَ: «لَا يَزَالُ لِسَانُكَ رَطْبًا مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ».»
অনুবাদ:আবদুল্লাহ ইবনু বুসর রা. বলেন, দুইজন বেদুঈন নবী ﷺ-এর কাছে এল। তাদের একজন বলল, “হে আল্লাহর রাসুল! আমাকে এমন একটি বিষয় বলে দিন, যা আমি দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরতে পারি।” তিনি বললেন, “তোমার জিহ্বা যেন সর্বদা আল্লাহর জিকিরে সিক্ত থাকে।”
(সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস: ৮১৪;) এছাড়াও ইমাম তিরমিযী রহ.সুনানুত তিরমিজি, হাদিসটি উল্লেখ করে বলেন:«هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ مِنْ هَذَا الْوَجْہ»

২. মু‘আয ইবনু জাবাল রা.-এর হাদিস
ইমাম ইবনু হিব্বান রহ. পূর্ন সনদে বর্ণনা করেছেন:
«أَخْبَرَنَا مُحَمَّدُ بْنُ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ عَبْدِ السَّلَامِ مَكْحُولٌ بِبَيْرُوتَ، قَالَ: حَدَّثَنَا مُحَمَّ بْنُ هَاشِمٍ الْبَعْلَبَكِّيُّ، قَالَ: حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، عَنِ ابْنِ ثَوْبَانَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ مَكْحُولٍ، عَنْ جُبَيْرِ بْنِ نُفَيْرٍ، عَنْ مَالِكِ بْنِ يُخَامِرَ، عَنْ مُعَاذِ بْنِ جَبَلٍ، قَالَ: سَأَلْتُ رَسُولَ اللَّهِ ﷺ: أَيُّ الْأَعْمَالِ أَحَبُّ إِلَى اللَّهِ؟ قَالَ: «أَنْ تَمُوتَ وَلِسَانُكَ رَطْبٌ مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ».»
অনুবাদ:মু‘আয ইবনু জাবাল রা. বলেন, আমি রাসুলুল্লাহ ﷺ-কে জিজ্ঞেস করলাম, “আমলসমূহের মধ্যে কোন আমল আল্লাহর কাছে অধিক প্রিয়?” তিনি বললেন, “তোমার মৃত্যু এমন অবস্থায় আসা যে, তোমার জিহ্বা আল্লাহর জিকিরে সিক্ত।”
(সহিহ ইবনু হিব্বান, হাদিস ৮১৮,)
এ হাদিসের সনদ সম্পর্কে মুহাক্কিক শু‘আইব আল-আরনাউত রহ.উল্লেখ করেন যে, এ সনদে ওয়ালিদ ইবনু মুসলিম নামক একজন মুদাল্লিস দাবী রয়েছে এবং তিনি ‘আন‘আনাহ সহ বর্ননা করেছেন;এছাড়া এই হাদিসের অন্য রাবিরা নির্ভরযোগ্য। তাছাড়া এই হাদিসের শাওয়াহিদ অন্য সহীহ হাদিসে বিদ্যমান রয়েছে। যেমন: «لَا يَزَالُ لِسَانُكَ رَطْبًا مِنْ ذِكْرِ اللَّهِ» এই হাদিসটি সুনানের তিরমিযী, সুনানে ইবনে মাজাহ মুসনাদে আহমদে সহীহ সনদে বর্ণিত হয়েছে। ইমাম তিরমিযী রহ. এই হাদিস উল্লেখ করে বলেন هذا حديث حسن غريب ، ইবনে রজব হাম্বলি রহ. جامع العلوم والحكم এটাকে সহীহ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

আল্লাহর জিকির” ব্যাপক অর্থে নামাজ, কুরআন তিলাওয়াত, দুআ ইত্যাদিকেও অন্তর্ভুক্ত করে। তবে বিশেষভাবে প্রচলিত অর্থে আল্লাহ তাআলার পবিত্রতা, একত্ববাদ , প্রশংসা, মহত্ত্ব , বড়ত্ব এবং তাঁর পূর্ণাঙ্গ গুণাবলি প্রকাশার্থে উচ্চারিত শব্দকে আল্লাহর জিকির ও তাসবিহ বলা হয়। শরিয়তে বিভিন্ন জিকিরের নির্দিষ্ট বাক্য যেমন শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, তেমনি কোনো কোনো জিকিরের নির্দিষ্ট সংখ্যাও হাদিসে উল্লেখ রয়েছে।

যেমন: ইমাম বুখারী রহ. পূর্ণ সনদে হযরত আবু হুরায়রা রা: থেকে বর্ণিত হাদিস উল্লেখ করেছেন
«حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ مَسْلَمَةَ، عَنْ مَالِكٍ، عَنْ سُمَيٍّ، عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَ رضي الله عنه، أَنَّ رَسُولَ اللَّه قَالَ: «مَنْ قَالَ سُبْحَانَ اللَّهِ وَبِحَمْدِهِ فِي يَوْمٍ مِائَةَ مَرَّةٍ حُطَّتْ خَطَايَاهُ، وَإِنْ كَانَتْ مِثْلَ زَبَدِ الْبَحْرِ».»
অনুবাদ :যে ব্যক্তি প্রতিদিন একশবার ‘সুবহানাল্লাহি ওয়া বিহামদিহি’ বলবে, তার গুনাহগুলো মুছে দেওয়া হবে, যদিও তা সমুদ্রের ফেনার মতো হয়।”
( সহিহুল বুখারি হাদিস ৬৪০৫)

এখানে লক্ষ্যণীয় বিষয় হলো রাসুলুল্লাহ ﷺ নিজেই «مِائَةَ مَرَّةٍ» “একশবার” সংখ্যা উল্লেখ করেছেন। ফলে নির্দিষ্ট সংখ্যাটি যথাযথভাবে পূর্ণ করার জন্য গণনার প্রয়োজন হওয়া স্বাভাবিক। জিকিরের সংখ্যা গণনা কোনো অনর্থক কাজ নয়। বরং নির্দিষ্ট সংখ্যার জিকিরের ক্ষেত্রে এটি আমলকে সুশৃঙ্খল রাখতে সাহায্য করে।যখন শরিয়ত কোনো জিকিরের নির্দিষ্ট সংখ্যা উল্লেখ করেছে তখন সেই সংখ্যা পূর্ণ হয়েছে কি না তা জানার জন্য গণনার প্রয়োজন হয়।এখানে মূল ইবাদত হলো জিকির; আর সংখ্যা নির্ণয় করা হলো সেই ইবাদত যথাযথভাবে সম্পন্ন করার মাধ্যম।সুতরাং জিকির এবং জিকিরের গণনামাধ্যমকে একই বিষয় মনে করা ঠিক নয়।
হাকিমুল উম্মত মাওলানা আশরাফ আলী থানভী রহ. জিকির গণনার একটি উপকার উল্লেখ করেছেন। তাঁর বক্তব্যের সারমর্ম হলো:শুরুতে নফসকে কোনো নেক আমলে অভ্যস্ত করানো কঠিন হয়। কিন্তু যখন তসবিহের মাধ্যমে জিকিরের সংখ্যা গণনা করা হয়, তখন নফসের মধ্যে একটি আনন্দ সৃষ্টি হয় যে, আজ এত পরিমাণ আমল করা হয়েছে এবং এত সওয়াবের আশা করা যায়। এতে পরবর্তী সময়ে আরও বেশি আমল করার আগ্রহ সৃষ্টি হয়।অন্যদিকে কোনো হিসাব ছাড়া যতই জিকির করা হোক, নফস ক্লান্ত হতে পারে; কিন্তু নির্দিষ্ট পরিমাণ আমল করার যে আনন্দ ও উৎসাহ, তা সৃষ্টি নাও হতে পারে। অতএব, জিকিরের সংখ্যা গণনা করা বিশেষত নিয়মিত আমল গড়ে তোলার ক্ষেত্রে একটি কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।

চলবে..............

Address

Kazipur-Sirajgong
Bogura

Website

Alerts

Be the first to know and let us send you an email when Mufti Tawhidul Islam Rifat posts news and promotions. Your email address will not be used for any other purpose, and you can unsubscribe at any time.

Shortcuts

Share