20/02/2026
একজন সুন্দরী নারী বিমানে প্রবেশ করে নিজের সিট খুঁজতে চারদিকে তাকালেন। তিনি দেখলেন, তার সিটটি এমন এক ব্যক্তির পাশে, যার দু’টি হাতই নেই। প্রতিবন্ধী সেই পুরুষের পাশে বসতে তিনি অস্বস্তি বোধ করলেন।
‘সুন্দরী’ নারী এয়ার হোস্টেসকে বললেন,
“আমি এই সিটে স্বচ্ছন্দে ভ্রমণ করতে পারব না। কারণ পাশের সিটে বসা লোকটির দু’টি হাত নেই।”
তিনি সিট পরিবর্তনের অনুরোধ করলেন।
অস্বস্তিতে পড়ে এয়ার হোস্টেস জিজ্ঞেস করলেন,
“ম্যাডাম, এর কারণটা কি জানাতে পারবেন?”
‘সুন্দরী’ নারী উত্তর দিলেন,
“আমার এ ধরনের মানুষ ভালো লাগে না। আমি এমন একজনের পাশে বসে ভ্রমণ করতে পারব না।”
শিক্ষিত ও ভদ্র মনে হওয়া ওই নারীর এমন কথা শুনে এয়ার হোস্টেস বিস্মিত হয়ে গেলেন।
নারী আবার জোর দিয়ে বললেন,
“আমি ওই সিটে বসতে পারব না। আমাকে অন্য কোনো সিট দিন।”
এয়ার হোস্টেস চারদিকে তাকিয়ে খালি সিট খুঁজলেন, কিন্তু কোথাও কোনো সিট খালি ছিল না।
তিনি বললেন,
“ম্যাডাম, ইকোনমি ক্লাসে এখন কোনো সিট খালি নেই। তবে যাত্রীদের স্বাচ্ছন্দ্য আমাদের দায়িত্ব। আমি প্লেনের ক্যাপ্টেনের সঙ্গে কথা বলছি। অনুগ্রহ করে একটু ধৈর্য ধরুন।”
এই বলে তিনি ক্যাপ্টেনের সঙ্গে কথা বলতে গেলেন।
কিছুক্ষণ পর ফিরে এসে তিনি বললেন,
“ম্যাডাম, আপনার অসুবিধার জন্য আমি দুঃখিত। পুরো প্লেনে মাত্র একটি সিট খালি আছে, আর সেটি ফার্স্ট ক্লাসে। আমাদের টিমের সঙ্গে আলোচনা করে আমরা একটি ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমাদের কোম্পানির ইতিহাসে এই প্রথম কোনো যাত্রীকে ইকোনমি ক্লাস থেকে ফার্স্ট ক্লাসে নেওয়া হচ্ছে।”
‘সুন্দরী’ নারী খুব খুশি হয়ে গেলেন। কিন্তু তিনি কিছু বলার আগেই এয়ার হোস্টেস প্রতিবন্ধী, হাতবিহীন ব্যক্তিটির দিকে এগিয়ে গিয়ে বিনয়ের সঙ্গে বললেন,
“স্যার, আপনি কি ফার্স্ট ক্লাসে যেতে চান? আমরা চাই না আপনি কোনো অসভ্য যাত্রীর পাশে বসে ভ্রমণ করে কষ্ট পান।”
এই কথা শুনে সব যাত্রী করতালি দিয়ে সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানালেন।
এতক্ষণে সেই সুন্দরী নারী লজ্জায় মাথা তুলে তাকাতেও পারছিলেন না।
লেখা - নিকুঞ্জ প্যাটেল
ভাষা - গুজরাটি থেকে অনুবাদকৃত।