19/02/2026
আমরা কেন মারা যাই কোরআন ও বিজ্ঞানের আলোকে একটি যুক্তিনির্ভর বিশ্লেষণ!
মানুষের জীবনে সবচেয়ে নিশ্চিত এবং সবচেয়ে রহস্যময় ঘটনা হলো মৃত্যু। মানুষ জানে সে একদিন মরবে, তবুও মৃত্যুর প্রশ্ন তাকে ভাবায়, ভয় দেখায়, কৌতূহলী করে। আমরা কেন মারা যাই? এটি কি শুধু শরীর নষ্ট হওয়ার ফল, নাকি এর পেছনে কোনো গভীর উদ্দেশ্য আছে?
এই প্রশ্নের উত্তর বিজ্ঞান ও কোরআন-দু'টি দৃষ্টিভঙ্গি থেকেই বিশ্লেষণ করলে কে এগিয়ে থাকে দেখা যাক..
কোরআনের দৃষ্টিতে আমরা কেন মারা যাই:
কোরআন স্পষ্টভাবে ঘোষণা করে যে মৃত্যু কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং সৃষ্টিকর্তার একটি উদ্দেশ্যপূর্ণ ঘটনা। "প্রত্যেক প্রাণীকে মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।"
(সূরা আলে ইমরান: ১৮৫)
কোরআনের মতে মৃত্যু হলো ধ্বংস নয়, বরং এক অবস্থা থেকে আরেক অবস্থায় গমন। মানুষ শুধু মাত্র দেহ নয়; মানুষ দেহ ও রূহের সমন্বয়। দেহ মাটি থেকে সৃষ্টি, তাই দেহ একদিন মাটি হয়ে যাবে। কিন্তু রূহ আল্লাহ অন্যত্রে নিয়ে যান, তাই রূহ নষ্ট হয় না।
কোরআন জানায়, জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করা হয়েছে পরীক্ষার জন্য।
"তিনি জীবন ও মৃত্যু সৃষ্টি করেছেন, যাতে তোমাদের পরীক্ষা করেন-কে উত্তম কাজ করে।"
(সূরা মুলক: ২)
যদি মৃত্যু না থাকত, তবে পরীক্ষার শেষ হতো না, ভালো-মন্দের বিচার অসম্পূর্ণ থেকে যেত। মৃত্যু মানুষের জন্য আখিরাতের দরজা খুলে দেয়, যেখানে প্রকৃত ন্যায়বিচার হবে।
বিজ্ঞানের দৃষ্টিতে আমরা কেন মারা যাই:
বিজ্ঞান মৃত্যু ব্যাখ্যা করে মূলত শারীরিক ও জৈবিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে। বিজ্ঞানের মতে-
মানুষের কোষ সীমিত সংখ্যকবার বিভাজিত হতে পারে,
বয়স বাড়ার সাথে DNA ক্ষয় হয়, টেলোমিয়ার ছোট হতে থাকে, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ একসময় কাজ বন্ধ করে দেয়, মস্তিষ্কের কার্যক্রম থেমে যায়, শরীর আর নিজেকে সচল রাখতে পারে না, তাই মৃত্যু ঘটে।
কিন্তু এখানে বিজ্ঞান একটি জায়গায় এসে থেমে যায়!
এর মানে বিজ্ঞান শুধু বলতে পারে মৃত্যু কীভাবে হয়, কিন্তু বলতে পারে না মৃত্যু কেন অনিবার্য, চেতনা কোথায় যায়, বা মানুষ যে মরে এই নিয়ম কে তৈরি করেছে।
বিজ্ঞান যেখানে থেমে যায়, কোরআন সেখানে কেন যৌক্তিক উত্তর দেয়, এখানেই মূল যুক্তির জায়গা।
প্রথমত: নিয়ম থাকলে নিয়মদাতা থাকা যুক্তিসঙ্গত। বিজ্ঞান বলে, "মৃত্যু প্রকৃতির নিয়ম।" কিন্তু নিয়মতো নিজে নিজে হয় না। প্রতিটি নিয়মের পেছনে একজন নিয়মদাতা থাকা যুক্তির দাবি। কোরআন বলে-
"আমি মানুষের জন্য নির্দিষ্ট সময় নির্ধারণ করেছি।" এটি যুক্তিসঙ্গত, কারণ পরিকল্পনা ছাড়া কোনো সিস্টেম স্থায়ীভাবে চলতে পারে না।
দ্বিতীয়ত: চেতনার প্রশ্ন!
মানুষ মারা গেলে শরীর পড়ে থাকে, কিন্তু "আমি"-এই অনুভূতি কোথায় যায়? মানে আমি কে? যা দেখব
তা আমার হাত, পা, চোখ, নাখ, অঙ্গপ্রত্যঙ্গ ইত্যাদি! কিন্তু আমি জিনিসটা কি? এতে বুঝা যায় বিজ্ঞান এখনো চেতনাকে বস্তুগতভাবে ধরতে পারেনি। Near Death
Experience-এর মতো ঘটনাগুলোর পূর্ণ ব্যাখ্যাও
বিজ্ঞানের নেই।
নিয়ার ডেথ বলতে যেসব মানুষ মেডিক্যালি
মারা গেছে ঘোষণার পর কাকতালীয় ভাবে ফিরে এসেছে
তাকে বুঝায়।
ফিরে আসা বেশ সংখ্যক মানুষের উপর
গবেষণা ও সাক্ষাৎকার নিয়ে দেখা গেছে, লোকটি মারা
গেছে ঘোষণার পর ফিরে আসার আগ পর্যন্ত যেই সময়টা,
সেই সময় তারা নাকী তাদের দেহের সামনে দাঁড়ানো ছিলো, সীটে তাদের বডি রাখা, ডাক্তার'রা কি কথা বলছেন এবং কি করছেন তা বলে দিতে পেরেছেন। আশ্চর্যজনক ব্যাপার হল তাদের মধ্যে কিছু লোক জন্ম থেকে অন্ধ ছিলো, কিন্তু তারাও সেইম বলতে পেরেছেন অনেক কিছুই। কিন্তু বেঁচে ফিরার পর তারা সেই আগের অন্ধ রয়ে গেছেন। এটি
কীভাবে সম্ভব সেই ব্যাখ্যা বিজ্ঞান এখনো খুঁজে চলেছে। অথচ মানুষের রুহ নিয়ে কোরআনে যা বলা আছে তাতে শরীরে রুহ থাকে এটি প্রমাণিত হয়ে যায়।
কোরআন বলে-
"মৃত্যুর সময় আল্লাহ রূহকে কবজ করেন।" রূহ ধারণাটি এখানে যুক্তিসঙ্গত হয়, কারণ অবস্তু চেতনাকে বস্তু দিয়ে পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা অসম্ভব।
তৃতীয়ত: ন্যায়বিচারের যুক্তি
এই পৃথিবীতে আমরা দেখি-অনেক জালিম শাস্তি ছাড়াই মারা যায়! অনেক নির্দোষ মানুষ কষ্টে জীবন পার করে মারা যায়! যদি মৃত্যু সবকিছুর শেষ হতো, তাহলে ন্যায়বিচার অর্থহীন হয়ে যেত। বিজ্ঞান এখানে নীরব। কোরআন ঘোষণা করে-
"কিয়ামতের দিন অণু পরিমাণ ভালো বা মন্দ কাজেরও হিসাব হবে।"
এটি মানব বিবেকের সাথে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। চতুর্থত: অমরত্বের আকাঙ্ক্ষা
মানুষ জানে সে মরবে, তবুও চিরকাল বাঁচতে চায়। বিজ্ঞান
এটাকে "survival instinct" বলে এড়িয়ে যায়। কিন্তু যুক্তি বলে-ক্ষুধা থাকলে খাদ্য আছে, তৃষ্ণা থাকলে পানি আছে। তাহলে অমরত্বের আকাঙ্ক্ষা থাকলে তার বাস্তবতাও থাকা যৌক্তিক। কোরআন বলে-আখিরাতই চিরস্থায়ী জীবন।
বিজ্ঞান আমাদের শেখায় মৃত্যু কীভাবে ঘটে, কিন্তু
কোরআন আমাদের জানায় মৃত্যু জিনিসটা কী এবং কেন প্রয়োজন। বিজ্ঞান দেহ বিশ্লেষণ করে, কোরআন গভীরভাবে অস্তিত্বের উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে আলহামদুলিল্লাহ।